সিলেটে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যু

কবর থেকে তোলা হবে লাশ, পিবিআইয়ের ফাঁড়ি পরিদর্শন

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৩১

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ নিহত রায়হান আহমদের লাশ কবর থেকে তুলে আবারও ময়নাতদন্ত করা হবে। গতকাল বুধবার এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান। তিনি জানান, আবার ময়নাতদন্তের জন্য রায়হানের মরদেহ কবর থেকে তোলার অনুমতি দিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই বাতেন পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন এ আদেশ দেন।

এদিকে বুধবার দুপুরে পিবিআইয়ের একটি দল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করেছে। পিবিআই দলের নেতৃত্বে ছিলেন পুলিশ সুপার (পিবিআই) মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ফাঁড়িটি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণে প্রাথমিকভাবে কিছু আলামত মিলেছে। তদন্তে এ ঘটনায় যাদের জড়িত পাওয়া যাবে মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর আগে গত মঙ্গলবার সকালে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলা পিবিআইতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। পরে এদিন রাতেই মামলার নথি আনুষ্ঠানিকভাবে পিবিআইতে হস্তান্তর করে মহানগর পুলিশ।

এদিকে ‘পুলিশি নির্যাতনে’ রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল বুধবারও নগরীতে দিনভর বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। রাতে একটি মশাল মিছিলও বের করা হয়।

সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তারা সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পেয়েছেন, ভোরে একটি অটোরিকশায় করে সুস্থ অবস্থায় রায়হানকে ফাঁড়ির ভেতরে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আবার সকালে অসুস্থ অবস্থায় ধরাধরি করে তাকে ফাঁড়ি থেকে বের করে আনা হচ্ছে। এমন প্রমাণ পাওয়ার পর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত কর্মকর্তা আকবর হোসেন পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করছে নগরবাসী। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের দাবি ওঠেছে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

নিহত রায়হানের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, রবিবার ভোরে রায়হান একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে তার মায়ের নাম্বারে ফোন দিয়ে জানান, তাকে ধরে নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে মারধর করা হচ্ছে। ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। রায়হানের চাচা ভোরে ৫ হাজার টাকা নিয়ে ঐ ফাঁড়িতে গেলে জানতে পারেন রায়হানকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন রায়হানের লাশ। পরে বিষয়টি চাউর হয়ে পড়ে এবং নগরবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। রায়হান নিহতের ঘটনায় রবিবার রাতে বন্দর ফাঁড়ির সব পুলিশকে অভিযুক্ত করে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

এদিকে রায়হানকে হত্যার অভিযোগে সংশ্লিদের প্রত্যাহারের পর বন্দর বাজার ফাঁড়িতে নতুন সাত পুলিশ সদস্যকে পদায়ন করা হয়েছে বলে জানান মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী : সিলেট বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক (সদ্য বরখাস্তকৃত) ইনচার্জ এসআই আকবরের সব অপরাধ বিষয়ে তদন্ত করতে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার পাঠিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরাধে জানানো হয়েছে।