কুমিল্লায় সাড়ে ৪শ পাসপোর্ট জব্দ, দালালচক্রের ৪ জন গ্রেফতার

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৭

কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়সংলগ্ন দুইটি স্থানসহ ৪টি আস্তানায় র‌্যাবের একাধিক টিম পৃথক অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৪শ পাসপোর্ট, বিপুল পরিমাণ আবেদন ফরম, ভুয়া ও জাল সাটিফিকেট, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার নামে ভুয়া সিল জব্দ করেছে। এ সময় পাসপোর্ট দালাল চক্রের ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা অবৈধপথে পাসপোর্ট তৈরির সাথে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের হিসাব বিভাগের কর্মচারী সফিকুল ইসলাম, মিজানসহ তিনজনের জড়িত থাকার কথা র‌্যাবকে জানিয়েছে। র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিবের নেতৃত্বে বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিনভর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা যায়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়সংলগ্ন বেশ কয়েকটি আস্তানাসহ কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানে অফিস খুলে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র পাসপোর্ট অফিসের এক শ্রেণির দুর্নীতিপরায়ন কর্মচারীকে ম্যানেজ করে অবৈধ পথে পাসপোর্ট তৈরি করছে- গোপন সূত্রে এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ কুমিল্লা ক্যাম্পের একাধিক টিম বুধবার অভিযানে মাঠে নামে। র‌্যাবের দল প্রথমে নগরীর মনোহরপুর এলাকায় সোনালী ব্যাংক ভবন সংলগ্ন ফাইন ফটো স্টুডিওতে অভিযান চালিয়ে মালিক মো. আতিককে গ্রেফতার করে। এ সময় তার স্টুডিও থেকে ২১১টি নতুন পাসপোর্ট, ৭৫টি পুরাতন পাসপোর্টসহ ভুয়া সীল ও বিপুল পরিমাণ কাগজপত্র জব্দ করা হয়। পরে আদর্শ সদর উপজেলার নোয়াপাড়া পাসপোর্ট কার্যালয় সংলগ্ন এলাকার খোকন এন্টারপ্রাইজ থেকে ৯৩টি পাসপোর্টসহ ইকবাল হোসেন ও আবুল কালাম নামে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওই এলাকার পাসপোর্ট অফিস লাগোয়া মার্কেটের কাজী রাইয়ান এণ্টারপ্রাইজ থেকে ৯টি পাসপোর্টসহ মালিক কাজী মিনহাজকে গ্রেফতার করা হয় এবং ওই মার্কেটের মা-মনি ডিজিটাল স্টুডিও থেকে ৪৮টি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এ সময় মা-মনি স্টুডিওর মালিক নিয়াজ মোরশেদ পালিয়ে যায়।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুস সাকিব সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টারের মতো অবৈধপথে পাসপোর্ট তৈরি করে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা এমন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে পাসপোর্ট অফিসের তিন কর্মচারী জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিসের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায়নি। তবে কুমিল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম আহমেদ জানান, বিস্তারিত জেনে ও খোঁজ-খবর নিয়ে পরবর্তীতে বক্তব্য দেয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমআর