দেশের প্রায় সব বিনোদন কেন্দ্র একে একে খুললেও সিনেমা হল বন্ধের সময়টা অনেকদিনের। হল মালিকরা অনেকদিন ধরেই অপেক্ষায় ছিলেন সরকার থেকে কবে হল খোলার অনুমতি পাওয়া যাবে। এ নিয়ে বেশ সংকটময় অবস্থাও তৈরি হয়। অনেক সিনেমা হলের অবস্থা বন্ধের দিকেও চলে যায়। অবশেষে আজ থেকে অনুমতি মিললো সিনেমা হল খোলার।
তবে এ নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস নেই হল মালিকদের মধ্যে। অনুমতি পাওয়া গেলেও অনেক হল খুলছে না আজ থেকে। কারণ নতুন সিনেমা সংকট। হল মালিকরা জানান, নতুন সিনেমা মুক্তি না পেলে হল খোলাটাও এখন লোকসান। প্রায় ২২টি সিনেমা মুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকলেও আজ মুক্তি পাচ্ছে ‘সাহসী হিরো আলম’ সিনেমাটি। কিন্তু এই সিনেমা দিয়ে হল খুলতে চান না বেশিরভাগ হল মালিক।
মধুমতি সিনেমা হলে মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘সিনেমা না থাকলে সিনেমা হল খুলেও লোকসান গুনতে হবে। আর হিরো আলমের সিনেমা দিয়ে হল খুলতে চাই না। নতুন সিনেমার অপেক্ষায় আছি।’
দেশের আরো কিছু জনপ্রিয় হল খুলবে না আজ থেকে। স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে জানানো হয় আগামী ২৩ অক্টোবর খুলবে ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’। দর্শক এবং নিজেদের কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়াজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণের সুবিধার্থে এক সপ্তাহ সময় নিয়ে ২৩ অক্টোবর থেকে তারা কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানান স্টার সিনেপ্লেক্সের মিডিয়া অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে কর্মীরা অনেকে ঢাকার বাইরে ছিলেন, সিনেমা হল খোলার বিষয়ে সরকারের অনুমতির খবরে তারা ঢাকায় আসার পর তাদের করোনা টেস্ট করা এবং প্রয়োজনসাপেক্ষে কোয়ারেন্টাইনে রাখাসহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। তাই তাদের একটু সময় লাগছে।
রাজধানীর ব্লকবাস্টার সিনেমাস খুলবে আজ থেকে। তবে সবগুলো স্ক্রিন খুলবে না আজ থেকে। একটি স্ক্রিন দিয়ে যাত্রা শুরু করবেন তারা। কিন্তু সিনেমা মুক্তির বিষয়টি জানানো হয়নি।
অন্যদিকে প্রযোজকরা বলছেন সারাদেশে করোনার এখন যেই অবস্থা তাতে দর্শকরা হলে আসা নিয়ে আশঙ্কায় তারা। হল খোলার কিছুদিন পর অবস্থা বুঝে সিনেমা মুক্তি সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
১৬ অক্টোবর তাদের প্রযোজিত পুরোনো ছবি ‘শাহেনশাহ’ মুক্তি দিতে চান। এই প্রযোজক বলেন, ‘নতুন ছবি বিদ্রোহী মুক্তি দেব না। আরও সময় নেব। পরিস্থিতি বুঝতে চাই। তারপর মুক্তির সিদ্ধান্ত নেব। তাছাড়া দর্শকের হলে ফেরার আগ্রহটাও দেখতে চাই।’
এখন হল খোলার পরেও ইন্ডাস্ট্রির ও হল ব্যবসা আবারো কবে ফিরবে তার অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাই।
