জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তির স্লোগান নিয়ে পথ চলার শুরুতেই নিয়োগ সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (খুকৃবি)। রেজিস্ট্রার, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিচালক (জনসংযোগ)সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সব পদ নিজেদের দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে এই চক্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাত জন সহকারী অধ্যাপক, এক জন সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ১৪ জন প্রভাষকসহ ২৯ ধরনের পদের জন্য ৭৬ জনের জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই সময় থেকেই বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন পদে নিয়োগ এবং খুলনার স্থানীয় প্রার্থীদের কৌশলে বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
চাকরিপ্রত্যাশীদের অনেকের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদধারী ও প্রভাবশালী কয়েক জন তাদের নিজ জেলার লোকজনকে একচেটিয়াভাবে নিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নিয়োগ পেতে পদভেদে ১২ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, নিয়োগ পরীক্ষা এখনো না হলেও রেজিস্ট্রারসহ চারটি পদে প্রার্থী ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। আর এই নিয়োগ সিন্ডিকেটের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জন সদস্য ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন অধ্যাপক। সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই ১৯ জন অধ্যাপক, রেজিস্ট্রার, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ ৩০ ধরনের পদে ৬৩ জন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) পরিচয়ে ডা. খন্দকার মাজহারুল আনোয়ার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। তবে তিনি নিজেই সেই পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্টরা এখানে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে। এই পদে আবেদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত উল্লেখ থাকলেও ডা. খন্দকার মাজহারুল আনোয়ারের বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির অভিজ্ঞতা মাত্র নয় বছর তিন মাসের। তবে মাজহারুল আনোয়ার এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১১ বছর চাকরি করেছি। অন্যান্য জায়গায় আরো ছয় বছর চাকরি করেছি। তাই অভিজ্ঞতার শর্ত লঙ্ঘিত হয়নি।’ তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও অস্বীকার করেন।
এদিকে শর্তের বহর পার করে ১১ জন প্রার্থী রেজিস্ট্রার পদের জন্য আবেদন করলেও যাচাইবাছাই কমিটির মাধ্যমে আট জন প্রার্থীকে বিভিন্ন অজুহাতে বাদ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ পরীক্ষায় একটু ‘প্রতিযোগিতা’ দেখানোর জন্য দুজন ডামি প্রার্থীকে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে ভিসির স্ত্রী ছাতক উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌসী বেগম অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা পদে কর্মরত ভিসির ছেলে ও মেয়ে বিশ্ববিদ্যলয়ে শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছেন। অথচ এই নিয়োগ বোর্ডের প্রধান ভিসি নিজেই। নিজ পরিবারের সদস্যরা প্রার্থী হলে আইনে যদি বাধাও না থাকে তবু সংশ্লিষ্টরা এখানে নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এসব বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শহীদুর রহমান খানের মোবাইল ফোনে পৃথক সময়ে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, বিশ্ববিদালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামান সাংবাদিকদের বলেন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারে নিজের ও ভিসির পোষ্যদের আবেদনের বিষয়টি নৈতিকতা পরিপন্থি। অন্যদিকে আবেদন করতে হলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্ব থেকে তাকে কিছুদিনের জন্য হলেও সরে যাওয়া উচিত ছিল। আর নির্ধারিত অভিজ্ঞতা পূরণ না করেই তিনি কীভাবে আবেদন করলেন এবং বাছাই কমিটি কীভাবে তার আবেদন গ্রহণ করল সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
