রাণীশংকৈলে পুকুরে মা ও দুই সন্তানের লাশ হত্যা না আত্মহত্যা!

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩২

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গি গ্রামের এক বাড়ির পুকুর থেকে মা, মেয়ে ও ছেলে তিন জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন, আরিফা বেগম (৩২), আঁখি আকতার (১০) ও আরাফাত (৪)। একই পরিবারের তিন জনের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে এখনো পুলিশ বা স্থানীয়রা কেউ কিছু বলতে পারছে না।

আরিফা বেগমের স্বামী আকবর আলী জানান, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে রাতে দুটি বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর ৫টার দিকে ঘুম ভেঙে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে বিছানায় না দেখে তিনি সাইকেল নিয়ে তাদের খুঁজতে বের হন। তার শ্বশুর বাড়িও খোঁজ নেন। সেখানে না পেয়ে ফেরার পথে প্রতিবেশী বাবুল সর্দারের থেকে ফোন পেয়ে জানতে পারেন পুকুরে তার স্ত্রী-সন্তানদের লাশ ভাসছে। পরে বাবুল, তোফা ও আকবরের বাবা সিরাজুল মিলে লাশগুলো পুকুর থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

জানা গেছে, আকবর পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। নানা কারণে তাদের মধ্যে সাংসারিক সংকট ছিল। আকবর জানান, সাংসারিক সংকট নিয়ে ঝগড়া করে এর আগেও তার স্ত্রী একবার গলায় ফাঁস দিতে গিয়েছিল। তখন এলাকার লোকজন আরিফাকে আত্মহত্যা থেকে নিবৃত্ত করেছিল।

ইউপি সদস্য কাবুলের ফোন পেয়ে এসআই সফিউল ঘটনাস্থলে যান। পরে সিনিয়র পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেন, ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল ও ওসি তদন্ত আব্দুল লতিফ শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিহতদের ময়নাতদন্তের জন্য লাশ              সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাণীশংকৈল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মৃতদের নাক ও মুখে ফেনা দেখা গেছে; এটি বিষক্রিয়ার কারণেও হতে পারে। তবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। রাণীশংকৈল থানার ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল বলেন, এ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না, লাশ ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে এর সঠিক কারণ জানা যাবে।  এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ধর্মগড় ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম মুকুল এভাবে মৃত্যুর ঘটনাকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এর সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মাইনুদ্দিন জানান, আরিফার স্বামী এলাকার জিনিসপত্র ফেরি করে সংসার চালাত; তাদের অভাবের সংসার ছিল। আর এই অভাব নিয়েই তাদের সংসারে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকত।