নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাবিতে জগন্নাথ হল শোক দিবস পালিত

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে হূদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর। দুর্ঘটনায় ২৬ জন ছাত্র, ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। প্রতিবছরের মতো এ বছরও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল, হোস্টেল ও প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালোব্যাজ ধারণ করা হয়।

সকাল ১১টায় জগন্নাথ হলের অক্টোবর স্মৃতি ভবন প্রাঙ্গণে শোক দিবসের আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সে দিন অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যার যার সাধ্যানুযায়ী রক্ত, অর্থ ও শ্রম দিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় হতাহতদের সাহায্যে সকলে এগিয়ে এসেছিল। মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধে এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা হলো আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।

উপাচার্য আরো বলেন, ‘১৫ অক্টোবর’ থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে এবং সকলের নিজ নিজ দায়িত্বের জায়গাটি জাগ্রত রাখতে হবে। এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সে দিকে যত্নবান ও সচেতন থাকার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক লুত্ফর রহমান, জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মিহির লাল সাহা, শোক দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক ড. দেবপ্রসাদ দাঁ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ সকাল সাড়ে ৭টায় জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করেন। পরে দিবসটি উপলক্ষ্যে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে মোনাজাত করা হয়।