শিল্পী হিসেবে আমি অনেক ধনী —তমালিকা কর্মকার

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৫

তমালিকা কর্মকার। একাধারে মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের সফল এই অভিনেত্রী নিজের কাজের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। সম্প্রতি শাহনেওয়াজ কাকলী পরিচালিত নতুন একটি চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করলেন। পাশাপাশি কলকাতার দুটি ছবির কাজ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। চলছে নতুন মঞ্চ পরিকল্পনা। নিজের ক্যারিয়ার, এই শোবিজ ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কথা বলেছেন সম্প্রতি বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।

লিখেছেন তানভীর তারেক

দীর্ঘ এই ক্যারিয়ারে নিজেকে কোন সময়টাতে বারবার ফেরাতে চান। এমন প্রশ্নে তমালিকা বলেন, আমি বারবার মামুনুর রশীদ-এর সাথে কাজের সময়টাতেই ফিরতে চাইব। তাকে আমি বাবা বলে সম্বোধন করি। মঞ্চের জন্য এখনও আমি সব কাজ ছেড়ে দিতে পারি। ভাল কাজের জন্য টাকা কখনওই আমার জীবনে ম্যাটার করেনি। তাই এসব নিয়ে ভাবিও না। এর ভেতরে কলকাতায় দুটি শো হবার কথা ছিল। যেটা করোনার জন্য খানিকটা থমকে আছে। সম্প্রতি আবার সেটি রিশিডিউল হয়েছে। আবার হয়ত শুরু করব।’

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার। কিন্তু সেক্ষেত্রে অনেকেই ধারণা করেন, চলচ্চিত্রের কাজের ক্ষেত্রে আপনি অনেকখানিই নিজেকে অবহেলা করেছেন? এমন প্রশ্নে তমালিকা বলেন,‘না কোনো কাজকেই আমি অবহেলা করিনি জীবনে। তবে এটা ঠিক চলচ্চিত্রে আরো খানিকটা সময় দিলে অবশ্যই নিজেকে আরো বড় জায়গা নিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু তা নিয়ে আক্ষেপ নেই।’

বাংলাদেশের টপক্রেজ হিরো সালমান শাহ তমালিকার বাল্যবন্ধু ছিল। একসাথে কাজ করেছেন ‘এই ঘর এই সংসার’ ছবিতে। এই ছবি নিয়েও অনেক গল্প রয়েছে। প্রয়াত সালমান শাহ নিয়ে আপনার কোনা স্মৃতিচারণ। বললেন, ‘দর্শক শ্রোতার কাছে তো সে সালমান শাহ। আর আমরা যারা কাছের মানুষ তাদের কাছে ও ছিল ইমন। ইমনের সাথে এই ছবিটায় প্রথমবারের মতো ডায়লগ মুখস্থ করে শুটিং করা হয়েছে। আসলে ইমন ছিল ভীষণ বন্ধুসূলভ। প্রানখোলা। আমি মনে করি প্রত্যেকের জীবনে ইমনের মতো একজন বন্ধু খুব প্রয়োজন। ‘এই ঘর এই সংসার’ ছিল সে সময়ের অন্যতম একটি আলোচিত ছবি। কমার্শিয়াল হলেও ছবিতে ভিন্নতা ছিল।’

ম্যাচিউরড তারকাদের ধীরে ধীরে ইন্ডাস্ট্রিতে জায়গা কমে যায়! সেদিক দিয়ে তমালিকা বরাবরই সমসাময়িক থাকার চেষ্টা করেছেন। তমালিকা এ প্রসঙ্গে বলেন,‘আমি কখনওই নিজে একসময় হারিয়ে যাবো। এসব ভয়ে ভীত নই। অভিনয়ের ক্ষেত্রে আমি ভীষণ আত্মবিশ্বাসী। দেখুন কেউ একজন ভালো কাজ জানলে তার কিন্তু খেয়ে পরে বেঁচে থাকাতে কোনো অসুবিধা হয়না। এখন প্রশ্ন হলো আমি কিভাবে বাঁচবো। আমার তো একটা সচল গাড়ি হলেই খুব চলে যায়। কিন্তু আমার চাহিদা যদি থাকে বিশ্বের সেরা ব্র্যান্ডের গাড়ি ছাড়া আমার চলবে না। অমুকে তো আমার চেয়ে ছোট আর্টিস্ট, ওর কেন এত দামী গাড়ি! আমার স্ট্যাটাসে তো ঝামেলা হয়ে যাচ্ছে। এসব প্রশ্ন কারো ভেতর ঘুরতে থাকলে আমি বলবো, ‘তুমি শিল্পচর্চা ছেড়ে অন্য ব্যবসা করো।’ আর এসবে আমি চিরজীবন অসুখীই থাকবো। কারণ এসব চাহিদার তো শেষ নাই। সুতরাং শিল্পের দিকে আমার কোন ঘাটতি নেই সেটা আমি খুব ভালো করে জানি। একজন শিল্পী হিসেবে আমি অনেক ধনী। আমি বিশ্বের শীর্ষ অভিনেতা যে কারো সাথে বাজি লেগে কাজ করতে পারি। তাই যারা অভিনয়ের অ’ও জানে না । কিন্তু ঢঙে ষোলআনা। নতুন মডেলের গাড়ির সাথে ছবি পোস্ট করে ভাবে এটাই জীবনের সেরা সাফল্য তারা ভোগে ‘হায় হায়’ অসুখে। আমার ভেতরে এসব হাপিত্যেস রোগ নাই।

নিজের অভিনয়ের ক্ষেত্রে বারবার কাজ করতে চান হুমায়ুন ফরিদী, মামুনুর রশীদ আর ফেরদৌসী মজুমদারের সাথে। এর বাইরে অনেকেই রয়েছেন  প্রিয় তালিকায়। যাদের সাথে কাজ করলে নিজেও সমৃদ্ধ হওয়া যায়। আসছে তার নতুন চলচ্চিত্র  ও মঞ্চের কাজ। এ নিয়ে ব্যস্ত এক সময় পার করছেন। নিজের স্বপ্ন চাহিদা প্রসঙ্গে শেষে বলেন,‘ভাল কিছু কাজ করতে করতে মরে যেতে চাই। এর বেশি ইচ্ছে আকাঙ্খা নেই আমার জীবনে।’