দাফনের সময় কেঁদে উঠল নবজাতক

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৫

ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করে ‘লাশ’ দিয়ে দিলেন। আর দাফনের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ‘মৃত’ নবজাতক কেঁদে উঠল। ঘটনাটি গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক)। কবরস্থান থেকে ফিরিয়ে এনে আবার সেখানেই নবজাতক ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, চিকিত্সাধীন নবজাতক ভালো আছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের সন্তানসম্ভবা শাহিনুরকে তার স্বামী  ইয়াসিন মোল্লা  তিন দিন আগে ঢামেক হাসপাতালের ১১২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ঐ ওয়ার্ডেও                শাহিনুর গতকাল ভোরের দিকে স্বাভাবিকভাবে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিছুক্ষণ পর চিকিত্সকরা জানান, মৃত বাচ্চা জন্ম নিয়েছে। এরপর হাসপাতালের আয়া বাচ্চাটিকে প্যাকেট করে বেডের নিচে রেখে দেন এবং কোথাও নিয়ে দাফন করার জন্য বলেন।

ইয়াছিন মোল্লা  বলেন, সকাল ৮টার দিকে তিনি মৃত নবজাতকটিকে আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে দেড় হাজার টাকা সরকারি ফি চায়। দিতে না পারায় তাদের পরামর্শে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যান। সেখানে ৫০০ টাকা ফি ও কিছু বকশিশ দেওয়ার পর মৃত নবজাতকটির জন্য কবর খোঁড়া শুরু হয়। কবর খোঁড়ার শেষ পর্যায়ে সবাই নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান। তারা প্যাকেট খুলে দেখেন যার জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছে সেই বাচ্চাটিই কান্নাকাটি করছে। এর পরই তাকে দ্রুত আবার ঢাকা মেডিক্যালে ফেরত নিয়ে আসা হয়।

ইয়াসিন মোল্লা বলেন, এটি তার দ্বিতীয় বাচ্চা। তার ১০ বছরের আরেকটি মেয়ে রয়েছে। তারা তুরাগ ধউর নিসাতনগর এলাকায় থাকেন। তার স্ত্রী গৃহিণী ও তিনি বিআরটিসির বাসচালক। চিকিত্সকরা এমন ভুল করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

হাসপাতালটির গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিলুফা সুলতানা বলেন, ‘আমি দুই দিনের ছুটিতে আছি। নবজাতকটির বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক আমাকে জানিয়েছেন।’