বেগমগঞ্জ উপজেলার লতিফপুর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর, ঘর ভাঙচুর, টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ থানায় চার জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জাহাঙ্গীর নামে একজনকে গ্রেফতার করে।
হামলার শিকার সুমন চন্দ্র দাস জানান, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় জমিদারহাটের নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার টাকা নিয়ে বাড়ি পৌঁছে ঘরে ঢোকার মুহূর্তে প্রতিবেশী শাজাহান ও জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একদল লোক তাকে অতর্কিত হামলা করে। তার চিত্কারে ঘর থেকে মা, ভাইবোন, কাকা, কাকাতো ভাই বের হয়ে আসলে হামলাকারীরা তাদেরও মারধর করে এবং ঘরে ভাঙচুর চালায়। এতে সুমন চন্দ্র দাস, তার মা গীতা রানি দাস, বোন পূর্ণিমা রানি দাস, ভাই তপন চন্দ্র দাস, কাকা হারাধন চন্দ্র দাস, কাকাতো ভাই ছোটন চন্দ্র দাস আহত হয়। আহতদেরকে বেগমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মারধর ও ভাঙচুরকালে হামলাকারিরা সুমনের পকেট থেকে ব্যবসার ৭০ হাজার টাকা ও গলার সোনার চেইন নিয়ে যায়। সুমন ও তার পরিবারের লোকজন আরো জানান, তাদের বাড়ির এক অংশীদার থেকে শাজাহানের পিতা মৃত আবদুল মালেক কিছু জায়গা কিনে ঘর তুলে বসবাস করার পর থেকে তাদের পরিবারকে ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য শাজাহান বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হোসেন সেলিম জানান, ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। থানায় মামলা না করে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহা করার চেষ্টা করব।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার সাব ইন্সপেক্টর বিপ্লব কুমার সিংহ জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তদবির করেছে ধৃত ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহা করতে। তবে এতে কর্ণপাত না করে আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত করছি।
