বাংলাদেশ চা-সংসদ ও চা-শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন মজুরি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগের ১০২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বাড়িয়ে চা-শ্রমিকদের দৈনিক সর্বোচ্চ মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১২০ টাকা। শ্রীমঙ্গল প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিসে দিনভর বৈঠক শেষে এ চুক্তি হয়। তবে এ চুক্তি অযৌক্তিক দাবি করে শুক্রবার সকালে বিক্ষোভ করেছে শমশেরনগর, কানিহাটি, আলীনগর চা-বাগান শ্রমিকরা।
চুক্তিতে বাংলাদেশীয় চা-সংসদের পক্ষে তাহসিন এ চৌধুরী, আলতামাস হাসান প্রমুখ এবং বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সভাপতি মাখন লাল কর্মকার, বালিশিরা ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা প্রমুখ।
জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী চা-শ্রমিকদের মজুরি এ-ক্লাস বাগানে ১২০ টাকা, বি ও সি-ক্লাস বাগানে ১১৮ ও ১১৭ টাকা করা হয়েছে। উত্সব বোনাসে ৪৫ দিনের মজুরির স্থলে ৪৭ দিন করা হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বালিশিরা ভ্যালি ও মনু-ধলই ভ্যালি সভাপতি বিজয় হাজরা ও ধনা বাউরী বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে রাত পর্যন্ত দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার পর সবার সম্মতিতেই এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। সম্প্রতি চা-শ্রমিকরা আন্দোলনে মুখর হয়ে ওঠায় সবদিক বিবেচনা করে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এদিকে ১২০ টাকার মজুরি চুক্তিতে প্রত্যাখ্যান জানিয়ে মৌলভীবাজার চা-শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী ও যুগ্ম-আহ্বায়ক হরিনারায়ণ হাজরা শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে ১২০ টাকায় পাঁচ, সাত সদস্যের শ্রমিক পরিবারে কিছুই হবে না।
উল্লেখ্য, আগের চুক্তি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়। ফলে এ চুক্তি বাস্তবায়ন হবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ কার্যকর থাকবে।
