উন্নয়ন যত পরিকল্পিতভাবে হবে বিদ্যুত্-জ্বালানি সরবরাহ তত টেকসই হবে। দেশের বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ খাতে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে দক্ষ জনশক্তি এবং উন্নত প্রযুক্তি। আর দক্ষ জনশক্তি এবং উন্নত প্রযুক্তি গড়ে না উঠলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। আর এই জন্য প্রযুক্তিনির্ভর সেক্টরগুলোতে প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রকৌশলী হওয়াও জরুরি। গতকাল শুক্রবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর যন্ত্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আইইবির শহিদ প্রকৌশলী ভবনের কাউন্সিল হলে ‘এনার্জি সিকিউরিটি অব বাংলাদেশ : ইস্যুজ অ্যান্ড অপশনস্’ শীর্ষক সেমিনার বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে আইইবির যন্ত্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও বিভাগের সম্পাদক আবু সাঈদ হিরোর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিদ্যুত্, জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, আইইবির প্রেসিডেন্ট মো. নূরুল হুদা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক, আইইবির সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সবুর এবং আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি) মো. নুরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত্ হোসেন (শীবলু) । সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ম. তামিম। সম্মানিত আলোচক ছিলেন, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এবং জিটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুজ্জামান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুত্, জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আমরা যদি প্রযুক্তিবান্ধব দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই স্বয়ংসম্পূর্ণতাকে স্থায়িত্বতা বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালনি উত্পাদনে আমাদের আরো প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ দরকার। জ্বালানি ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে গ্যাস তা এক সময় শেষ হয়ে যাবে। আমরা বিদ্যুত্, জ্বালানি এবং গ্যাস ক্ষেত্র নিয়ে মাস্টার প্ল্যান করছি। ঢাকা শহরে গ্যাস ব্যবস্থাপনায় টোটাল অটোমেশন করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশকে বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অবকাঠামোগত মাস্টার প্ল্যান বাংলাদেশে নেই, তবে সেটা খুব দরকার। যত অবকাঠামোগত নির্মাণ হচ্ছে যেমন, পদ্মা সেতু, বড় বড় রাস্তা তার সঙ্গে সঙ্গে এনার্জির চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে। কোন জায়গায় কোন ধরনের ইন্ডাস্ট্রি হবে সে অনুযায়ী আমাদের গ্যাস, বিদ্যুত্ ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পারব।
মো. আবদুস সবুর বলেন, ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি জাতীয় স্বার্থে দেশের বৃহত্ পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্র তিতাস, বাখরাবাদ, রশীদপুর, কৈলাশটিলা ও হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী বহুজাতিক তেল কোম্পানি শেল ওয়েল ইন্টার ন্যাশনাল কাছ থেকে নামমাত্র মূল্য কিনে নিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, মানব সভ্যতার অস্তিত্ব নির্ভর করে জ্বালানি শক্তির ওপর। দেশের জন্য বর্তমানে জ্বালানি একটি অপরিহার্য সম্পদ। শুধু আমাদের দেশে নয়, জ্বালানি ছাড়া পৃথিবীর গতিশীলতা স্তব্ধ হয়ে যাবে। তাই আমাদের সবাইকে পরিমিত জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অধিক সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।
