যুগলবন্দি—কিন্তু চিন্তায় ও প্রকাশে ভিন্নতা রয়েছে। এই ভিন্নতার কারণেই প্রদর্শনীর নামকরণ করা হয়েছে ‘থট-২’। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রদর্শনীটির উদ্বোধন হয়েছে লালমাটিয়ায় গ্যালারি শিল্পাঙ্গনে। ৯ দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী শিশির ভট্টাচার্য। দুই সমকালীন শিল্পী এইচ এম ঢালি তমাল ও ফারজানা রহমান ববির এটি যৌথ প্রদর্শনী। সাংবাদিক রুমি নোমানের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, সমালোচক শিল্পী জাভেদ জলিলসহ আরো শিল্পানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীতে শিল্পীদ্বয়ের ৬৯টি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী চলবে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোভিডের এই সময়ে আমি নিজে একটা লাইনও আঁকতে পারিনি। একটা অস্থির সময় আমরা পার করেছি। এই সময়ে মানুষ ঘরে ঢুকে পড়েছে। সেই সময়ে কাজ করা ছিল বেশ কঠিন। কিন্তু এই শিল্পীরা যে ঘরে বসে কাজ করেছেন, একঘেয়ে জীবন থেকে পরিত্রাণ পেতে নিজ মনে কাজ করে গেছেন, এজন্যে তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে।’ শিল্পীদের নিয়ে বলতে গিয়ে শিল্পী জাভেদ জলিল বলেন, মানুষের শিল্প চিন্তার মূলে যে ব্যক্তিগত চিন্তা রয়েছে, তারই অনবদ্য প্রকাশ করেছেন এই দুই শিল্পী। তবে তা এসেছে ভিন্ন মাধ্যম ও রীতিতে।
শিল্পী তমাল যে অঞ্চলে বেড়ে উঠেছেন সেখানে রোদ, বৃষ্টি, আলোছায়া, প্রকৃতি তাকে শক্তি জুগিয়েছে, তার মনে প্রাণ সঞ্চার করেছে। পরবর্তীতে তিনি শিল্পীরূপে সেই জীবনীশক্তিকে যেভাবে প্রকাশ করতে চেয়েছেন, তা আমাদের কাছে মূর্ত রূপ নিয়েই দেখা দিয়েছে। তার গ্রেজিং গ্রাউন্ড স্টোরি আমখোলা বীল, প্যান্ডামিক, ক্রো, —সিরিজের কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে শিল্পী ববি অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক। প্রকৃতির রূপ রহস্য তিনি এক অপূর্ব স্বপ্নলোকের ভেতর দিয়ে আস্বাদন করেন। শিল্পী তার সেই চিন্তাও সেই বিমূর্তলোকের চরিত্র বহন করে। এ ক্ষেত্রে আফটার দ্য রেইন, রিইনকার্নেশন, রূপান্তর, আন্ডার দ্য ওয়াটারের কাজ তার উল্লেখযোগ্য।
