একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১৯:০৮

মো. আবুল কালাম, সহযোগী অধ্যাপক

গিয়াসউদ্দীন ইসলামিক মডেল কলেজ

নারায়ণগঞ্জ

আড় তরঙ্গ:যে তরঙ্গ মাধ্যমের কণাগুলোর দিকের সাথে সমকোণে অগ্রসর হয় তাকে আড় তরঙ্গ বলে।

পানি তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ, বেতার তরঙ্গ ও পুকুরে ঢিল ছুড়লে যে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় তা আড় তরঙ্গের উদাহরণ।

আড় তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য :

i. কণার কম্পন ও তরঙ্গ গতির অভিমুখ সব সময় সমকোণে অবস্থান করে।

ii. তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ উত্পন্ন করে, iii. সমবর্তন ঘটে।

লম্বিক তরঙ্গ: যে তরঙ্গ মাধ্যমের কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালে অগ্রসর হয় তাকে লম্বিক তরঙ্গ বলে।

শব্দতরঙ্গ, একমাত্রিক সিপ্রং তরঙ্গ, বাঁশির সুরের তরঙ্গ, ঢোলে আঘাত করলে সৃষ্ট তরঙ্গ ইত্যাদি লম্বিক তরঙ্গের উদাহরণ।

লম্বিক তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য :

i. মাধ্যমের কণার কম্পন ও তরঙ্গ প্রবাহের দিক একই দিকে। ii. সংকোচন ও প্রসারণ সৃষ্টি হয়।

iii. মাধ্যমে লম্বিক তরঙ্গের পোলারায়ন ঘটে না।

iv. স্থিতিস্থাপক ধর্মসম্পন্ন মাধ্যমে লম্বিক তরঙ্গ উত্পন্ন হয়।

প্রশ্ন: পানিতে ঢিল  ছুড়লে তরঙ্গের সৃষ্টি হয় কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর:কোনো একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের বিভিন্ন কণার সমষ্টিগত কম্পনের ফলে মাধ্যমে যে আলোড়ন বা আন্দোলন সৃষ্ট হয় তাকে তরঙ্গ বলে।

ঢিল পানিতে যে জায়গায় পড়ে সেই জায়গায় পানি কণাগুলো ঢিলের শক্তি গ্রহণ করে এবং তা তরঙ্গ আকারে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে; কিন্তু তরঙ্গের অভিমুখে পানির কোনো প্রবাহ হয় না। এভাবেই স্থির পানিতে ঢিল ছুড়লে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন: পানির উপরিতলে ঢিল ফেললে যে তরঙ্গ উত্পন্ন হয় তা তির্যক তরঙ্গ না লম্বিক তরঙ্গ? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: পানির উপর ছোট আকারের ঢিল ফেললে উত্পন্ন তরঙ্গটি যখন পানির উপর দিয়ে অগ্রসর হয় তখন হালকা ভাসমান (যেমন: শোলা) উপর নিচে আন্দোলিত হতে থাকে। সুতরাং তরঙ্গটির অভিমুখ ও কণার কম্পনের অভিমুখ পরস্পর লম্ব হওয়ায় এটি তির্যক তরঙ্গ। তবে বড় আকারের ঢিল ফেললে ভাসমান পদার্থকে তরঙ্গের ধাক্কায় তরঙ্গ গতির অভিমুখে সরে যেতেও দেখা যায়। কাজেই সেক্ষেত্রে অনুদৈর্ঘ্য বা লম্বিক তরঙ্গও মিশ্রিত থাকে।

প্রশ্ন:কঠিন ও তরল পদার্থের মধ্যে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ গতি কীভাবে সম্ভব? বাখ্যা কর।

উত্তর: কোনো মাধ্যমে তরঙ্গ গতি উত্পত্তি ও সঞ্চালনের জন্যে ঐ মাধ্যমের স্থিতিস্থাপকতা এবং জড়তা গুণাবলি প্রয়োজন। কঠিন পদার্থের আকৃতি বা দৃঢ়তা গুণাঙ্ক রয়েছে অর্থাত্ কঠিন পদার্থের স্থিতিস্থাপকতা থাকায় কঠিন মাধ্যমে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ গতি সম্ভব। পানি এবং তরল পদার্থের স্থিতিস্থাপকতা গুণাবলি না থাকলেও এদের একটি সমভাবে কার্যকর গুণ রয়েছে। এরা এদের কণার উপরের দিকের সরণ প্রতিরোধ করে পৃষ্ঠদেশের সমতা রক্ষা করে। তাই পানি ও তরল পদার্থের মধ্যেও অনুপ্রস্থ তরঙ্গ গতি সম্ভব।