এসডিজি অর্জনে তরুণদের সম্মিলিত প্লাটফর্ম

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৭

এমডিজি অর্জনের সময় শেষ হয় ২০১৫ সালে। এরপর জাতিসংঘ ঘোষণা করে ১৫ বছর মেয়াদি ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ বা এসডিজি। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ২০১৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্য পূরণ করতে হবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে। এসডিজি বাস্তবায়নের মেয়াদকাল আগামী ১৩ বছর। এসডিজি এলো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে। কারণ এখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭ টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। এসডিজিতে শুধু কাজ করলেই চলবে না কাজটির মান কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে সেটাই গুরুত্ব পাবে।

আর এসডিজির গোল বাস্তবায়নে এ গুরুত্ব অনুধাবন করেই তরুণদের সম্পৃক্ত করতে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একদল উদ্যোগী স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (ওয়াইপিএসডি) নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম। মূলত তরুণদের বাদ দিয়ে এ গোল অর্জন সম্ভব নয় এ চিন্তা থেকেই তিনি এ সংগঠন গড়ে তোলেন।

শুরুতে ক্ষুদ্রপরিসরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক পোস্টের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করেন এবং সদস্য সংগ্রহের কাজ করেন। ধীরে ধীরে আব্দুল মতিন, মোতালেব, মওদুদ সুজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন।

সংগঠনটির সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, এসডিজি অর্জনে তরুণদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সমন্বয় করে গোল অর্জনে সহযোগিতা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য সেমিনার, সিম্পজিয়াম ও নিয়মিত কর্মশালা চলছে। শিক্ষা উপকরন বিতরণ করা হয়েছে চট্টগ্রাম,জামালপুর ও ফেনীতে।

সংগঠনটি সারাদেশের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ৪০টি জেলায় তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। দেশের বাইরে ১০টি দেশে ওয়াইপিএসডির কান্ট্রি এ্যাম্বাসেডর রয়েছে। বর্তমানে ২১ জন কার্যনির্বাহী সদস্য নিয়ে গঠিত এ সংগঠনে ২০ হাজারের বেশী তরুণ-তরুণী সম্পৃক্ত রয়েছে। এছাড়া এসডিজি বাস্তবায়নে তিনি যুক্ত করলেন গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করার  কাজ। 

সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা এডুকাস্ট নামক একটি শিক্ষামূলক অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কাজ শুরু করেছি। তরুণ-তরুণীদের কারিগরি শিক্ষায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ ও  অন্যান্য অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

আরও পড়ুনঃ ডোমারে সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান কালাম আটক

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহন প্রয়োজন। মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কারিগরী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে আমরা কাজ করবো। সারাদেশে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে পারলে ২০৩০ সাল নাগাদ ১৭ টি গোল বাস্তবায়ন কঠিন হবে না।’

ইত্তেফাক/নূহু