ইসলামিক বন্ড ‘সুকুক’ ছাড়বে সরকার

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:৩৭

গাইডলাইন প্রকাশ

Åলেনদেন হবে শেয়ারবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটেও

Åনিবাসীদের পাশাপাশি

   অনিবাসীরাও বিনিয়োগ

   করতে পারবেন

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ইসলামিক বন্ড বা সুকুক ব্যবহারের গাইডলাইন প্রকাশ করেছে সরকার। সম্প্রতি এই গাইডলাইনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ বিভাগের ট্রেজারি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ। এতে বলা হযেছে, নিবাসীদের পাশাপাশি অনিবাসী যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ করতে পারবেন। এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে স্থানীয় মুদ্রায় ছাড়া হবে এই বন্ড। অনিবাসী ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী দেশের যে কোনো ব্যাংকে তার নামে পরিচালিত নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট বা নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে পারবেন। শেয়ারবাজারের সেকেন্ডারি মার্কেটেও সুকুক লেনদেন হবে।

এটি প্রচলিত, সাধারণ বা ট্রেজারি বন্ড নয়। বিশ্বব্যাপী চালু আছে এমন একটি শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি বন্ড এটি। এ ধরনের বন্ড ‘সুকুক’ নামে পরিচিত। সুকুক ইসলামি বন্ড চালু হলে সরকারের অর্থ সংগ্রহের নতুন একটি উত্স তৈরি হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের বন্ড চালু আছে। শরিয়াহভিত্তিক সুকুকে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা কোনো সুদ পাবেন না, মুনাফা পাবেন। এ মুনাফা কম বা বেশি হতে পারে। সাধারণত সুকুক চালু করা হয় সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের অধীনে। ঐ প্রকল্প থেকে যে আয় হবে, তা মুনাফা হিসেবে সুকুকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। এর ফেসভ্যালু সরকার নির্ধারণ করবে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যেহেতু দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের পথ সম্প্রসারণ ও সুগম করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়, সেহেতু শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় সরকার কর্তৃক সুকুক ইস্যুর লক্ষ্যে গাইডলাইন প্রণয়ন করা হলো। শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক ইস্যুসংশ্লিষ্ট বিষয়াদির জন্য, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যারা ‘বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক’-এর উপযুক্ত ক্রেতা এবং ধারক, তাদের আইনত উত্তরাধিকারী কিংবা মনোনীত ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সুকুক ইস্যু কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে বলে গাইডলাইনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ছাড়া হতে পারে ৫ হাজার কোটি টাকার বন্ড। সাধারণত বাজেটের খরচ মেটাতে এত দিন রাজস্ব সংগ্রহের পাশাপাশি সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও ব্যাংক ঋণের ওপর ভরসা করে আসছিল। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে সরকার নতুন এই বন্ড ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দেশের ব্যাংকব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর অংশীদারিত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ সরকারের ঘাটতি অর্থায়নে শরিয়াহভিত্তিক কোনো বিনিয়োগ উপকরণ নেই। এতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সরকারও ঘাটতি অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যবহার করতে পারছে না। সুকুকের মাধ্যমে ঘাটতি অর্থায়ন করা হলে সরকারের সুদ ব্যয়ও কমবে। গাইডলাইনে আরো বলা হয়েছে, সুকুক পরিচালনার জন্য শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটি গঠন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ, ব্যবসা ও আর্থিক বিষয়ে অভিজ্ঞরা থাকবেন। এ কমিটি সুকুক ইস্যুর জন্য শরিয়াহ গাইডলাইন মেনে মোড অব ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগের গতিধারা) নির্ধারণের বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

সুকুকের সেকেন্ডারি বাজারে লেনদেন সম্পর্কে গাইডলাইনে বলা হয়েছে, নিবাসী ও অনিবাসী উভয় ধরনের বিনিয়োগকারী সেকেন্ডারি বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে অংশ নিতে পারবেন। সুকুক ইস্যুকারী দেশের ভেতরে বা আন্তর্জাতিক যে কোনো প্ল্যাটফরমে এর তালিকাভুক্তি এবং ট্রেডিংয়ের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।