স্পোর্টস রিপোর্টার
পায়ের ওপর বল করেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মুশফিকুর রহিম বল ঠেলে দিয়েছিলেন মিড উইকেট অঞ্চলে। শর্ট মিড উইকেটে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কিছুটা দৌড়ে বলের নাগাল পেলেন। ততক্ষণে মুশফিকের কল পেয়ে দৌড়ে অনেকটাই অপরপ্রান্তে চলে গেছেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। মাহমুদউল্লাহকে বলের কাছাকাছি দেখেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন মুশফিক। একটু এগিয়ে এসেও আবার উইকেটে ফেরত গেলেন তিনি। তাতেই অপমৃত্যু ঘটল একটি ইনিংসের।
অগ্রজ মুশফিকের এমন মুখ ফিরিয়ে নেওয়া দেখে ফেরত যাওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করলেন আফিফ। মাহমুদউল্লাহর থ্রো খুব ভালো ছিল না। বোলার মিরাজ বল ধরে স্ট্যাম্প ভেঙে দেন। খুব কাছাকাছি থেকে তা দেখেছেন আফিফ। ৯৮ রানে রানআউট হলেন এই তরুণ।
দুর্ভাগ্যজনক! গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেন আফিফ। ২ রানের আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হলো বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের চতুর্থ ম্যাচে গতকাল চাপের মুখে থেকে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিংয়ে গড়া আফিফের ইনিংসটা পূর্ণতা পেল না মুশফিকের ভুলে।
টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির সুযোগ বঞ্চিত হওয়া আফিফ ইনিংস জুড়েই দুর্দান্ত খেলেছেন। নাজমুল একাদশ ৩১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসলে নবম ওভারে উইকেটে আসেন আফিফ। মাহমুদউল্লাহ একাদশের পেসারদের তৈরি করা চাপে তখন দ্রবীভূত নাজমুল একাদশ। একপ্রান্তে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা মুশফিক। টানা ১৫ বল ডট দিয়েছেন তিনি। শুরুতে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে গেছেন, মিরাজ ক্যাচ ফেলায়। ১৬তম বলে রানের খাতা খুলেন মুশফিক।
অপরপ্রান্তে শুরু থেকেই স্বাবলীল ছিলেন আফিফ। উইকেটের চারপাশে দারুণ সব শট খেলেছেন তিনি। ৬৯ বলেই হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। পরের ৩৯ বলে করেছেন ৪৮ রান। সেঞ্চুরি তখন দৃষ্টি সীমায়। কিন্তু অপঘাতে ইতি ঘটল ইনিংসটির। ৩৯তম ওভারে রানআউট হন এই তরুণ। তার ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ১টি ছয়। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে তার জুটিটা থামল ১৪৭ রানে। অবশ্য এই জুটিতে ভর করে ৮ উইকেটে ২৬৪ রান তুলেছে নাজমুল একাদশ।
ভগ্ন মনরথে আফিফ ফেরার পর হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুশফিক। ৯০ বলে পঞ্চাশে পৌঁছান তিনি। আফিফকে রানআউট করলেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। ৯২ বলে ৫২ রান করে আউট হয়েছেন স্কুপ খেলতে গিয়ে। বল জমা পড়ে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে।
