কাব্য সাহা
বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করোনা ভাইরাসের ‘সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ’। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে সাত মাসেরও বেশি সময় অতিক্রম করেছে। গত ৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে এর প্রকোপ চলমান। তবে বিগত দিনগুলো থেকে এর ভয়বহতা কিছুটা কমেছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে আক্রান্তের এবং মৃতের সংখ্যাটা তুলনামূলকভাবে সামলে উঠলেও এর ভয়াবহতা পুনরায় বাড়তে পারে। আমাদের দেশ থেকে করোনা ভাইরাস এখনো পুরোপুরি নির্মূল হয়নি, সুতরাং এখনই করোনা ভাইরাসের গুরুত্ব না দেওয়াটা বা স্বাস্থ্যবিধি মানায় অনীহা প্রকাশ—বোকামির পরিচয় হবে। শুরুতে পারিপার্শ্বিক সূত্রে জানা গেছে, করোনা ভাইরাস শুধু শীতপ্রধান দেশেই ছড়ায় কিন্তু এই তথ্য ভিত্তিহীন প্রমাণ করে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলেও আমরা করোনার প্রকোপ দেখেছি। তবে শীতপ্রধান দেশগুলোতে এর ভয়াবহতা বেশ আশঙ্কাজনক ছিল। আমরা দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময়ে করোনার মৃদু থেকে মাঝারি প্রকোপ দেখেছি, যা অনেক মানুষের হূত্স্পন্দন থামিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে শুরু হয়েছে দেশে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ। যেহেতু শীতপ্রধান দেশে এর সংক্রমণ ঝুঁকি বেশি ছিল এবং এখনো অনেক দেশে তা দৃশ্যমান, আমাদের দেশেও যেন শীতের প্রভাবে করোনা মহামারির ভয়াবহতা বেড়ে না যায়, এখন থেকেই সে ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
শীতের সময় দেশে ঠান্ডাবাহিত নানারকম রোগ বেড়ে যায়, যেমন—কাশি, অ্যাজমা, সাময়িক জ্বর ও শ্বাসকষ্টের মতো নানা শারীরিক সমস্যা। আর এগুলো করোনা সিনড্রোমের প্রাথমিক দিক, যা থেকে সহজেই মানুষ আক্রান্তের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। শীতের সময় আমাদের ঘর বা জানালা বন্ধ থাকে, এতে বদ্ধ ঘরে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ বাড়তে পারে। শীতের সময় তরুণ বা মাঝারি বয়সের মানুষ থেকে শিশু ও বৃদ্ধদের শীতবাহিত রোগ বেশি হয়, সেক্ষেত্রে শিশু ও বৃদ্ধদের বিশেষ নজরে রাখতে হবে।
তাছাড়াও শীতের সময় ঠান্ডা পানি আমরা এড়িয়ে চলি। সুতরাং নিজেদের পরিষ্কার রাখা বা হাত ধোয়া থেকে আমরা যেন বিরত না থাকি সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। শীতের প্রভাবে করোনা ভাইরাস বাড়ে এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই তবে অসচেতনতা বা অবহেলা যেন দেশে এর খারাপ প্রভাব বিস্তার না করতে পারে, সে ব্যাপারে নিজ জায়গা থেকে সবাইকে আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
গত চার মাসের গবেষণায় দেশে করোনা ভাইরাস এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১৬০ বার মিউটেশন বা রূপ বদল করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল বায়োটেকনোলোজি ল্যাবের গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু এর বড় একটি অংশের শক্তি কম হওয়ায় সংক্রমণ হলেও এর তীব্রতা এবং মৃত্যু কম দেখা গেছে। এর প্রভাবে ভ্যাকসিন ব্যবহারে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, গবেষকরা তা বিশ্লেষণ করে দেখছেন। আসন্ন শীতে এর তীব্রতা বাড়বে এমনটি বলা যাচ্ছে না, কিন্তু বিশ্বব্যাপী শীতপ্রধান দেশের রেখাচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় করোনার উত্পত্তিস্থল চীনে যখন করোনা সংক্রমণ হয় তখন শীত মৌসুম চলছিল এবং যেসব দেশে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানি ঘটে, তাদের অধিকাংশ দেশই শীতপ্রধান বা শীতসংশ্লিষ্ট দেশ। সুতরাং বাইরের দেশ থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে, নিজেদের দেশের পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগে থেকেই সবাইকে সতর্ক হতে হবে। শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল বা নগরীতে ডাক্তার, নার্স বা স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সবাইকে প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
