‘সাঁই আমার কখন খেলে কোন খেলা’

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:১২

শিল্পকলা একাডেমিতে লালন স্মরণোত্সব

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মহাত্মা ফকির লালন শাহের ১৩০তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে দুই দিনের স্মরণোত্সবের শেষ দিনেও বাউল গানে জমে উঠেছিল শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ। লালনের বাণী, সুরের রেশ মাতোয়ারা করে তুলছে ভিড় করে থাকা শ্রোতাদের। লালনের গানের টানে এসেছিলেন দর্শকরা। শিল্পীদের গানে দর্শকরা উপভোগ করলেন লালনগীতি। সাধকদের কাছে লালনের গান শুধু সুরে বসানো শব্দমালা নয়, তাদের কাছে গানের বাণী হচ্ছে জীবন-জিজ্ঞাসার অন্বেষণ। গানে গানে শিল্পীরা এবং শ্রোতারা সবাই মগ্ন ছিলেন সেই অন্বেষণে। দেশি-বিদেশি লালন ভক্ত, শিল্পী ও গবেষকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল শিল্পকলা একাডেমি। সন্ধ্যার পর থেকে একাডেমি প্রাঙ্গণ বাউলকুঞ্জে সাঁইজির গানে মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয়েছিল এক খণ্ড ছেঁউড়িয়ায়। এর আগে অনুষ্ঠানে সাঁইজির ভাববাণী ‘যেখানে সাঁই বারাম খানা’ পরিবেশন করেন টুনটুন ফকির; ‘সাঁই আমার কখন খেলে কোন খেলা’ পরিবেশন করেন শিল্পী শফি মণ্ডল; ‘শিরনি খাওয়ার লোভ যার আছে’ পরিবেশন করেছেন শিল্পী পাগলা বাউল। ‘বাড়ির পাশে আরশিনগর’ পরিবেশন করেন জাপানের শিল্পী কয়োকো তাকাদা। এছাড়া লালনগীতি পরিবেশন করেন শ্রীলঙ্কার শিল্পী সুগাত মৈত্র।

এদিকে, সকাল থেকেই ছিল আন্তর্জাতিক সেমিনার। একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাউল গান ও বাউল দর্শনবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার আগে জাতীয় পর্যায়ের বাউল শিল্পীদের পরিবেশনা ‘এলাহি আলমিন গো আল্লাহ, বাদশা আলম বনা তুমি’ বাউলদের কণ্ঠে এ গান দিয়ে শুরু হয় সেমিনার। সেমিনারে বক্তাদের আলোচনার পাশাপাশি শিল্পীরা বাউল সংগীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক সুশান্ত কুমার সরকার। সেমিনারে বিশ্ব মানবতার মুক্তিতে লালন দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অধ্যাপক ড. শক্তিনাথ ঝা, লালনচর্চার ইতিহাস সংরক্ষণে আমাদের করণীয় নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল করিম। বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় লালন সাঁইজির গান :শুদ্ধবাণীর অনুসন্ধান ও সাম্প্রতিককালের পরিবেশনরীতির পর্যালোচনা করেছেন নাট্যকার ও গবেষক ড. সাইমন জাকারিয়া। বাংলাদেশ সরকার ও ইউনেস্কোর যৌথ উদ্যোগে ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ সংরক্ষণ ও প্রসারবিষয়ক বক্তব্য প্রদান করেন উইনেস্কোর ঢাকা অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার কিষী তাহ্নিন।