বহির্বিভাগে টিকিটের বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৭

হরিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে টিকিটের বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে টিকিটের মূল্য তিন টাকা নির্ধারিত থাকলেও নেওয়া হয় পাঁচ টাকা করে। তবে চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা খুচরা দিতে না পারার কারণে পাঁচ টাকা নেওয়া হলেও পরে এসে দুই টাকা ফেরত নিয়ে যেতে বলা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্বিভাগ খোলা থাকে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী বহির্বিভাগে টিকিট কেটে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায় বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ লাইন। তাদের টিকিট দিচ্ছেন অফিস সহায়ক শিমুল মিয়া। তাকে সহযোগিতা করছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. ফারুক।

হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা অন্তত ১২ জন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিকিটের দাম হিসেবে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কাউকেই পরে এসে দুই টাকা ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়নি। তারা জানান, টিকিট বাবদ নিয়মিতই পাঁচ টাকা করে নেওয়া হয়।

চিকিত্সা নিতে আসা দড়িকান্দি গ্রামের আয়েশা বেগম জানান, তার কাছ থেকে টিকিটের দাম পাঁচ টাকা নেওয়া হয়েছে। বয়ড়া গ্রামের কৌশল্যা জানান, তার কাছ থেকেও পাঁচ টাকা নেওয়া হয়েছে।

রোকেয়া বেগম নামের এক নারী জানান, তার কাছ থেকেও পাঁচ টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি ১০ টাকার নোট দিলে তাকে পাঁচ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

খলিলপুর গ্রামের সুমি জানান, তার কাছ থেকেও টিকিটের বিনিময়ে পাঁচ টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, টিকিটের দাম নিয়মিতই পাঁচ টাকা করে নেয় কর্তৃপক্ষ।

টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়ক শিমুল মিয়া বলেন, খুচরা না থাকলে পাঁচ টাকা নেওয়া হয়। তাদের বলে দেওয়া হয় পরে এসে দুই টাকা নিয়ে যেতে।

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান বলেন, তিন টাকা যারা খুচরা দিতে পারেন না, তারা পাঁচ টাকা দেন বা তাদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নেওয়া হয়। তাদের পরে এসে দুই টাকা ফেরত নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দেওয়া হয়। কেউ নিতে এলে নেয়, কেউ না এলে তো আর কিছু করার নেই।

মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে আইন মোতাবেক টিকিটের অধিক দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি বেশি নিয়ে থাকে, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।