নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেনের দল। গতকাল শনিবার অধিকাংশ ভোট গণনার পর আর্ডেনের নেতৃত্বাধীন মধ্যবামপন্থি দলটি ৪৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। বিরোধীদল মধ্যডানপন্থি ন্যাশনাল পার্টি পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে।
এ নির্বাচন সেপ্টেম্বরে হওয়ার কথা ছিল কিন্তু নতুন করে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ভোট এক মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। দক্ষতার সঙ্গে করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলা করায় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছেন বলে ভোটের আগে হওয়া সব জনমত জরিপে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের ফলাফলে জরিপের ইঙ্গিতেরই প্রতিফলন ঘটল। নিউজিল্যান্ডের এখনকার নির্বাচনি ব্যবস্থায় কোনো দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন দুরূহ। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তার কারণে তার দল সে বাধা সহজেই অতিক্রম করল।
১৯৯৬ সালে দেশটিতে মিশ্র সদস্য আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (এমএমপি) ব্যবস্থা চালুর পর কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটের ৪৯ শতাংশ পেয়েছে লেবার পার্টি, ন্যাশনাল পার্টি পেয়েছে ২৭ শতাংশ এবং এসিটি নিউজিল্যান্ড ও গ্রিন পার্টিগুলো আট শতাংশ করে ভোট পেয়েছে। নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে মাউরি প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু আসন সংরক্ষিত আছে। নির্বাচনের জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে আর্ডেন বলেন, ‘প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে লেবার পার্টির প্রতি সবচেয়ে বড় সমর্থন দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।’ নির্বাচনে জয়ের জন্য ন্যাশনাল পার্টির নেতা জুডিথ কলিন্স আর্ডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বিবিসি জানায়, সর্বশেষ ফলাফলে লেবার পার্টি পার্লামেন্টে ৬৪টি আসন পেতে পারে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট। নির্বাচনে আর্ডেনের প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরো অর্থ দেওয়া, সবচেয়ে বেশি আয় করা ২ শতাংশের ওপর আরো করারোপ এবং জলবায়ুবান্ধব নীতি নেওয়া। —বিবিসি
