মাথাপিছু জিডিপিতে পেছনে পড়ার খবরে ভারতের গণমাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫০

মাথাপিছু জিডিপিতে (মোট দেশজ উত্পাদন) পিছিয়ে পড়ার খবরে ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এ নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক চলছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও বলেছেন, অর্থনীতির এই অবস্থার জন্য সরকারি ব্যর্থতাই দায়ী। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভারতের অর্থনীতি মারাত্মক সংকোচিত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর ফলে চলতি ২০২০ সালে মাথাপিছু জিডিপিতে (মোট দেশজ উত্পাদন) বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলবে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে ভারতের চলতি বছরে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ সংকোচন হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর ফলে ভারতের মাথাপিছু জিডিপির পরিমাণ কমে দাঁড়াবে ১ হাজার ৮৭৭ ডলারে (১ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪৫ টাকা)। অন্যদিকে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপির আকার দাঁড়াবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার (১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ টাকা)। মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের তুলনায় কেবল পাকিস্তান ও নেপাল পেছনে থাকবে। আর ভুটান, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে।

দ্য ইকোনমিক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (আরবিআই) অর্থনৈতিক সংকোচনের যে পূর্বাভাস দিয়েছে, আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী এই সংকোচন তার চেয়েও বেশি হবে। আরবিআইয়ের হিসাবে দেশটির অর্থনীতি সাড়ে ৯ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা           করেছে। এনডিটিভির সংবাদে মাথাপিছু জিডিপির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সম্প্রচার করা হয়েছে। হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ভারতীয় সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। অর্থনীতির এত বড় সংকোচনের কারণ হিসেবে তিনি সরকারি ব্যর্থতা তুলে ধরেন। তার মতে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ভারতের চেয়ে বেশি সাফল্য দেখিয়েছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। এক টুইট বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, গত ছয় বছরে বিজেপির বিদ্বেষমূলক জাতীয়তাবাদী সংস্কৃতির দুর্দান্ত সাফল্য হলো, বাংলাদেশ ভারতকে টপকে যেতে চলেছে।

আনন্দবাজারের সংবাদ অনুযায়ী, ভারতের অর্থনৈতিক চালচিত্র নিয়ে আইএমএফের এই ভবিষ্যদ্বাণী আরো খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ দীপঙ্কর দাশগুপ্ত। তার মতে, ‘বাংলাদেশের জনসংখ্যা আমাদের থেকে অনেক কম। ফলে মাথাপিছু জাতীয় উত্পাদনের বিষয়টি ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতিতে আমরা অনেকটা নিচে নেমে গিয়েছি। সেখান থেকে আগামী বছর কতটা উত্থান হবে, তা-ই হবে বিচার্য বিষয়।’ মাথাপিছু জিডিপি নিয়ে একটি ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। ভারতের জনসংখ্যা বাংলাদেশের চেয়ে আট গুণ বেশি, এর পরেও ক্রয়ক্ষমতার বিচারে মাথাপিছু জাতীয় উত্পাদন বাংলাদেশের চেয়ে ১১ গুণ বেশি ছিল ২০১৯ সালে। অর্থাত্, ক্রয়ক্ষমতার বিচারে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

আগামী বছর ঘুড়ে দাঁড়াবে ভারত :

এ বছর বাংলাদেশের তুলনায় পিছিয়ে পড়লেও আগামী বছরই ভারত বেশ ঘুরে দাঁড়াবে—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। ধারণা করা হচ্ছে, পরের বছর, অর্থাত্ ২০২১ সালে দেশটির বড় প্রবৃদ্ধি হবে। ভারতের প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হতে পারে। আর বাংলাদেশের হতে পারে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাত্, আগামী বছরই মাথাপিছু জিডিপিতে আবার বাংলাদেশকে পেছনে ফেলবে ভারত। ফলে আগামী বছর ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৩০ ডলারে (১ লাখ ৭২ হাজার ৫৫০ টাকা) উন্নীত হবে, যেখানে বাংলাদেশের হবে ১ হাজার ৯৯০ ডলার (১ লাখ ৬৯ হাজার ১৫০ টাকা)। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা বিশ্বের শীর্ষ তিন দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকবে শুধু গায়ানা (২৬ দশমিক ২) ও দক্ষিণ সুদান (৪ দশমিক ১)।