লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন শাহ মোয়াজ্জেম

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫১

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কটূক্তিমূলক বক্তব্যকে অনিচ্ছাকৃত ভুল উল্লেখ করে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে চিঠি দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। গত বৃহস্পতিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠানো চিঠিতে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, দলের নেতৃত্ব নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় তিনি মর্মাহত, দুঃখিত ও লজ্জিত।

চিঠিতে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, ৩ অক্টোবর একটি চ্যানেলের একজন রিপোর্টার আমার সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে আসেন। মূল সাক্ষাত্কারের আগে ও পরে অনেক দীর্ঘ আলোচনা হয়। যার অনেক কিছুই ছিল অপ্রাসঙ্গিক। পরে তারা এমনভাবে আমার সাক্ষাত্কার সম্পাদনা ও সম্প্রচার করে যা আমাদের দলের জন্য ছিল বিব্রতকর এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য ছিল লজ্জাকর। প্রচারিত বক্তব্য আমার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান, দায়িত্ব ও বিশ্বাসের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। খালেদা জিয়া তথা বিএনপির কোটি কোটি সমর্থকের জন্য এটা ছিল কষ্টের। এজন্য আমি মর্মাহত, দুঃখিত ও লজ্জিত। আমি আমার সব বক্তব্য প্রত্যাহার করছি। আগামী দিনগুলোতে খালেদা জিয়া ও আপনার নেতৃত্বে সাধ্যমতো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবশ্যই উপস্থিত থাকব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ মোয়াজ্জেম বলেন, আমি দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা            চেয়েছি। কারণ দলের শীর্ষনেতা সম্পর্কে আমার বলাটা ঠিক হয়নি—এটা আমি স্বীকার করছি। আবার এটাও ঠিক, আমার খণ্ডিত বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসনের আপসহীন ভাবমূর্তি নিয়ে সম্প্রতি একটি টিভি ও পরে ইত্তেফাকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর, দলের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়। শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ঐ বক্তব্যে বেগম জিয়া প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘কীসের আপসহীন? আপস না করলে উনি আসলেন কীভাবে? আপস না করে বেরিয়ে আসলেন কী করে? সরকারের কথা শুনেই তো বের হয়ে আসলেন। রাজনীতি করার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন হয়। লেখাপড়া জানা দরকার, সেটা নাই। অভিজ্ঞতা দরকার, সেটা নাই। হ্যাঁ, জিয়া যখন মারা গেছেন তখন বিধবা স্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, এইতো। দি অনলি কোয়ালিটি অ্যান্ড দি অনলি ক্রিডেনশিয়াল ইজ দ্যাট শি ইজ দ্য উইডো অব জিয়াউর রহমান। এ কারণেই তো তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর সেই জিয়াউর রহমানের বিচারটা হলো না কেন।’