নির্বাচনে হারলে আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়বেন ট্রাম্প

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫৭

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হতে লড়ছেন। আগামী ৩ নভেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন তিনি। নির্বাচনে তার পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশও। সিএনএনের এক খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে হারলে গুরুতর আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হবে বর্তমান প্রেসিডেন্টকে।

খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে হারলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগে তদন্ত শুরু হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে তার ব্যবসায়ের আর্থিক লেনদেনে প্রতারণার অভিযোগ। তিনি ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্টের পদ ব্যবহার করেছেন এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় কয়েক জন নারী যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব অভিযোগ অস্বীকার করার পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মানহানির মামলাও রয়েছে।

সিএনএন বলছে, প্রেসিডেন্ট পদে থাকায় ট্রাম্প এসব অভিযোগের তদন্ত ও মামলার কার্যক্রম স্থগিত বা ঝুলিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে হারলে এসব অভিযোগে তাকে বড় ঝামেলার মুখে পড়তে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমের অপরাধ নিয়ে ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি বোর্ডের তদন্ত এক্ষেত্রে তার জন্য সবচেয়ে বড় আইনি হুমকি হতে পারে।

ম্যানহাটন ইউএস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রসিকিউটর হ্যারি স্যান্ডিক বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পদ থেকে সরলে প্রসিকিউটর ও বাদীদের পক্ষে তার বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলাগুলো নিয়ে অগ্রসর হওয়া সহজ হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্রেসিডেন্ট থাকার জন্য অনেক মামলায় তার বিরুদ্ধে সমন জারি করা যাচ্ছে না। সিএনএনের আইন বিশ্লেষক ও সাবেক কেন্দ্রীয় প্রসিকিউটর জেনিফার রজার্স বলছেন, নিউ ইয়র্কের স্টেট প্রসিকিউটররা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেননি এর কারণ তিনি প্রেসিডেন্ট এবং অনেক বেশি ক্ষমতাবান। এখনই তাকে অভিযুক্ত করা সম্ভব নয়। যে কারণে হয়তো তারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। ট্রাম্প হারলে এবং পদ থেকে সরলে এসব অভিযোগ নিয়ে তদন্ত দ্রুত শুরু হতে পারে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন আইনপ্রণেতা ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ক্রাইমস কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

‘ট্রাম্প সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ মানুষ’

হোয়াইট হাউজের সাবেক চিফ অব স্টাফ অবসরপ্রাপ্ত জে. জন কেলি বন্ধুদের বলেছেন, তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ মানুষ হলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যার অসততার গভীরতা তাকে বিস্মিত করেছে। ট্রাম্পের মতো মানুষের সঙ্গে তিনি আগে কখনো সাক্ষাত্ করেননি। সিএনএনের এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আগাম ভোটের রেকর্ড 

আগামী ৩ নভম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরই মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত ২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ভোটার উপস্থিত হয়ে কিংবা ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। মার্কিন ইলেকশন প্রজেক্টের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন। খবরে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে এই সময়কালে ৬০ লাখ আগাম ভোট পড়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে এবার আগাম ভোটের সংখ্যা বেশি। অনেক ভোটারই নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার চেয়ে বিকল্প উপায় খুঁজছেন।