দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
দুটি মাত্র রান।
এই দুই রানের আক্ষেপ মুশফিকুর রহিমের ভালোই জানা আছে। এশিয়া কাপের ফাইনালে তিনি দেখেছিলেন বাংলাদেশ দলের ২ রানের হার। এবার তারই ভুল আহ্বানে সেই ২ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব।
এই দুই রানের জন্য আক্ষেপে পোড়ার কথা ধ্রুবর। এমনকি ভুল কল করে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য মুশফিকের ওপর রাগ করাও অন্যায় কিছু নয়। কিন্তু ধ্রুবর কণ্ঠে একেবারে খাটি স্পোর্টসম্যানশিপের সুর। তিনি সব উড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘না, না। রাগ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। এটা পার্ট অব গেম। হ্যাঁ, সেঞ্চুরি হলে ভালো লাগতো। কিন্তু তা নিয়ে আমার আফসোস নেই। শেষ পর্যন্ত টিম জিতেছে, এটাই মূল আনন্দের ব্যাপার।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ধ্রুব কেবল উঠে আসতে থাকা এক তারকার নাম। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এখন আস্তে আস্তে জাতীয় দলে নিজেকে শক্ত করার পালা। ১২টি টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন অত্যন্ত মারকুটে ব্যাটসম্যান বলে একসময় পরিচিতি পাওয়া এই অলরাউন্ডার। এ বছর ওয়ানডে অভিষেকটাও হয়ে গেছে।
জাতীয় দলে নিজেকে টেকসই করার জন্য চলমান বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপটা একটা ভালো ছন্দ এনে দেওয়ার কাজ করছে। প্রথম দুই ম্যাচে খুব একটা রান পাননি। অবশেষে শনিবার ১০৭ বলে ৯৮ রানের ইনিংস খেলেছেন নাজমুল হাসান একাদশের হয়ে। ধ্রুব বলছিলেন, দলকে জেতানোর পাশাপাশি এই ইনিংসটা লম্বা সময় পর তাকেও একটা স্বস্তি দিয়েছে।
তবে একটা ছোট ‘কিন্তু’ থেকে গেছে। ধ্রুব মূলত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। লম্বা সময় ইনিংসও শুরু করেছেন। কিন্তু এই পর্যায়ে এসে টপ অর্ডারে কিছুতেই সুযোগ মিলছে না। টি-টোয়েন্টিতে ৬ থেকে ৮ নম্বরে ব্যাট করতে হচ্ছে। তার মধ্যেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি করেছিলেন। এই সর্বশেষ প্রেসিডেন্টস কাপের ম্যাচেও ৫ নম্বরে নামতে হয়েছে। নিজেই বলছিলেন, এরকম পজিশনে বড় ইনিংস খেলা শক্ত, ‘আসলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচটায় একটা সুযোগ এসেছিল। কিন্তু যে জায়গায় ব্যাট করছি, তাতে বড় ইনিংস খেলা আসলে কঠিন।’
তাহলে কি ব্যাটিং পজিশন নিয়ে একটু আফসোস আছে? না, সেটাও নেই। ধ্রুবর এ ক্ষেত্রে নিজের মতো ব্যাখ্যা আছে। বলছিলেন, ‘আসলে আমার কাজ তো খেলা। কোন পজিশনে খেলব, সেটা তো আমার ওপর নির্ভর করে না। আমি যে কোনো জায়গায় ব্যাট করতে তৈরি আছি।’
আরেকটা ব্যাপার হলো, ধ্রুবর বোলিং। বিপিএলে প্রথম চিনিয়েছিলেন সবচেয়ে কম বয়সি হিসেবে ৫ উইকেট নিয়ে। সেটা তার আসল পরিচয় না হলেও বলটা তিনি নিয়মিতই করতেন। ইদানীং সে সুযোগও পাচ্ছেন না। তার পরও নিজের বোলিং শক্তিটাকে তৈরি রাখছেন, ‘বোলিংয়ের সুযোগ খুব আসে না। কিন্তু আমি নেটে অনেক সময় দেই। আমি সবদিক থেকেই নিজেকে রেডি রাখি। তারপর যখন যে সুযোগ আসে।’
