কচুরিপানায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে কৃষিজমি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২১:২৭

বিলে বাঁশ-জালের পাটা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাড়িয়াদহ বিলে বাঁশ ও জাল দিয়ে পাটা দেওয়ার কারণে বিলের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে ব্যাপক এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে কচুরিপানা। এতে অনাবাদি হয়ে পড়েছে কয়েক শ হেক্টর কৃষিজমি।

উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন সুজন বলেন, মাছ চাষের জন্য দেওয়া বাঁধের কারণে জমিতে কচুরিপানা আটকে কৃষকের ধানিজমি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বিলে পানির প্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে। এই জমির ওপর ৪ হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা নির্ভর করে। সেজন্য দ্রুত বাঁধটি অপসারণ করে জমিগুলোকে চাষের উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন। জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ও রূপসদী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে থাকা বাড়িয়াদহ বিলটি স্থানীয় ফরদাবাদ-রূপসদী ধীবর সমবায় সমিতির নামে তিন বছরের জন্য ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে বাঁশ ও জাল দিয়ে বাঁধ দেওয়া এলাকার মধ্যে স্থানীয় অনেক কৃষকের জমি রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আবদুল জলিল জানিয়েছেন, এক কানি জমি থেকে কচুরিপানা সরাতে প্রায় ৫-৭ হাজার টাকা খরচ লাগে। কিন্তু এই টাকা খরচ করে কচুরিপানা সরানোর আর্থিক সংগতি নেই অধিকাংশ কৃষকের।

রূপসদী গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাত্তার মিয়া জানান, বাড়িয়াদহ বিলে বাঁধ দেওয়ার কারণে তার সব জমি এখন কচুরিপানার নিচে। ফরদাবাদ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মামুন মিয়া বলেন, বাঁধের কারণে কচুরিপানা আটকে আমাদের জমি এখন চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফরদাবাদ গ্রামের আরেক ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল হান্নান বলেন, এই বাঁধের কারণে আশপাশের সব জমি কচুরিপানায় ভরে গেছে।

বিলের ইজারাদার ও ফরদাবাদ-রূপসদী ধীবর সমবায় সমিতির সদস্য পিছন দাস বলেন, ‘জমিতে আটকে থাকা কচুরিপানা আমরা পরিষ্কার করে দেব’। ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে ধীবর মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি বিলটি সাব লিজ দিয়েছে। আর এতেই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। তারা কারো কোনো কথা শুনে না। দ্রুত বাঁধটি ভেঙে দেওয়ার জন্যে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ার বলেন, ‘আমরা ইজারা নেওয়া মত্স্যজীবী সমিতিকে সময় দিয়েছি, নির্দিষ্ট ঐ সময়ের মধ্যে বাঁধটি অপসারণ করার পাশপাশি কৃষি জমিতে আটকে থাকা কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য বলা হয়েছে। যদি নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময়ের মধ্যে বাঁধটি অপসারণ এবং কচুরিপানা পরিষ্কার না করা হয়—তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।