নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন হত্যা
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনকে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে হত্যা করে বিতর্কিত নেতাদের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসী বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক তুষার, তুর্জয় ও মাসুদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিতর্কিত নেতাদের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছে।
এদিকে ইতিমধ্যে হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত তুষারের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা গেছে, সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন হত্যা মামলার হোতা ও প্রথম আসামি তুষার ওই ছবিতে বড় তলোয়ার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সে ছবির একেবারে মাঝখানে। এছাড়া ছবির ডান পাশে তুষারের ভাই ও মামলার দ্বিতীয় আসামি হাসনাত আহম্মেদ তুর্জয় বড় খুন্তি হাতে অবস্থান করছে। এছাড়া তাদের গ্যাংয়ের বাকি দুই সদস্যও চাপাতি ও বড় তলোয়ার হাতে নিয়ে অবস্থান করছে।
সম্প্রতি আসামি তুষারের সঙ্গে কলাগাছিয়া ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার প্রধানসহ জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি সেক্রেটারির ছবি ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তুর্জয়ের সঙ্গে যুবলীগ নেতা খান মাসুদের সেকেন্ড ইন কমান্ড রাজু আহম্মেদের অসংখ্য ছবি রয়েছে। এসব ছবি যখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় তখন একজন সংসদ সদস্য ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দুলাল প্রধানের পাশেও আরেক আসামি মাসুদের ছবি প্রকাশিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার দাপটে ক্রমশ ভয়ংকর হয়ে ওঠে খুনিরা। ধরাকে সরাজ্ঞান করে চলা এই সন্ত্রাসীরা কাউকে তোয়াক্কা করত না। যে কারণে লেখনির মাধ্যমে প্রতিবাদ করায় খুন হতে হলো সাংবাদিক ইলিয়াসকে। ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়া সেসব ছবিতে দেখা যায়, আটককৃত আসামিদের মধ্যে মূল তুষার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। অন্য দিকে তার ভাই তুর্জয়ের সঙ্গে যুবলীগ নেতা খান মাসুদ গংদের সুসম্পর্ক রয়েছে। খান মাসুদের সেকেন্ড ইন কমান্ড সন্ত্রাসী রাজু আহম্মেদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে খান মাসুদ বাহিনীর অন্যতম সদস্য হয়ে উঠে তুর্জয়।
জানা গেছে, যুবলীগ নেতা খান মাসুদের বিশাল বাহিনী রয়েছে। বন্দরজুড়ে তার বাহিনীর লোকজন ছড়িয়ে আছে। কোন ঝামেলা হলেই ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনে যুবলীগ নেতা খান মাসুদ। আরেকটি ছবিতে আসামিদের তালিকায় থাকা যুবলীগ নেতা মাসুদের পাশে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল প্রধানকে দেখা গেছে। দুলালের বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। এর আগে ডিবি পুলিশের হাতে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতার হন দুলাল।
প্রসঙ্গত ১১ অক্টোবর রাতে বাসায় যাওয়ার পথে উপজেলার আদমপুর এলাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা সাংবাদিক ইলিয়াসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তুষারকে আটক করে পুলিশ। এসময় তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ধারালো ছুরিও উদ্ধার করা হয়। বন্দর থানার পরিদর্শক আজগর হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তুষার জানিয়েছে সে একাই সাংবাদিক ইলিয়াসকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।
