মহেশখালীতে স্বামীর বাড়ির উঠান খুঁড়ে মিলল এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ স্ত্রীর লাশ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৫

কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলায় ছয় দিন ধরে নিখোঁজ গৃহবধূ আফরোজা বেগমের মরদেহ অবশেষে উদ্ধার হয়েছে। তাকে হত্যার পর লাশ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। স্বামীর বাড়ির আঙিনার মাটি খুঁড়ে গত শনিবার মধ্যরাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল হাই।

নিহত আফরোজা (২৫) উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের পূইছড়া গ্রামের মো. ইসহাকের মেয়ে। তিনি চকরিয়ার উপকূলীয় বদরখালী কলেজের খণ্ডকালীন প্রভাষক রাকিব হাসান বাপ্পীর স্ত্রী। বাপ্পী উত্তর নলবিলার আওয়ামী লীগ নেতা হাসান বশিরের ছেলে।

ওসি বলেন, গত ১২ অক্টোবর শ্বশুরবাড়ি থেকে আফরোজা বেগম ‘নিখোঁজ’ হন। এ ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ ইসহাক বাদী হয়ে রাকিব হাসান বাপ্পীকে প্রধান আসামি করে চার জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। স্বজনদের পাশাপাশি পুলিশ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও আফরোজার সন্ধান পাচ্ছিল না। শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত নলবিলার আশপাশের পাহাড়ের পাদদেশে সন্দেহজনক স্থানে মাটি খুঁড়ে খোঁজা হয় আফরোজাকে। না পেয়ে পুলিশ চলে এলেও স্বামীর বাড়ির প্রতি নজর রাখতে গোয়েন্দা লাগানো হয়। রাতে উঠানের মাটি খুঁড়তে শুরু করে স্বামীর বাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ এলে বাড়ির লোক জন পালিয়ে যায়। আর পুলিশ স্বামীরবাড়ির আঙিনায় মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় আফরোজার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি অর্ধ-গলিত হয়ে গেছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি আরো বলেন, ৯ মাস আগে রাকিবের সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। দুই জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আফরোজার প্রথম স্বামী মারা গেছেন। অন্যদিকে রাকিব হাসান বাপ্পী তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আফরোজাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকে বাপ্পীর সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর আবারো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এ নিয়ে আফরোজা ও বাপ্পীর মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এ নিয়ে আফরোজার ওপর রাকিব অমানবিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। এ নিয়ে আগেও গ্রামে সালিশ হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এক বছর আগে বাপ্পীর সঙ্গে আফরোজার বিয়ে হয়। এটি আফরোজার তৃতীয় এবং বাপ্পীর চতুর্থ বিয়ে। বিয়ের পর তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের জেরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা পর্যন্ত গড়ায়। কিছুদিন আগে মামলায় আপসের সূত্র ধরে বাপ্পী আফরোজাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। মামলার বিষয় নিয়ে হয়তো বাপ্পী স্ত্রীকে আবারও প্রহার করে। গত ১২ অক্টোবর আফরোজা নিখোঁজ হয়েছে বলে শাশুড়ি রোকেয়া হাসান আফরোজার বাবার বাড়িতে খবর দেন। সেই থেকে আফরোজা নিখোঁজ ছিলেন। স্বামী রাকিব হাসান বাপ্পীও সেদিন থেকে পলাতক রয়েছেন।

মহেশখালী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল হাই বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য আফরোজার মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী বাপ্পীকে প্রধান করে আফরোজার বাবার দেওয়া অভিযোগটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট আসামি করা হয়েছে পাঁচ জনকে। রবিবার বিকাল পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।