এসআই আকবরকে গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৯

মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ রায়হান আহমদের মৃত্যুর আট দিন পর সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী। এতে রায়হানের মা সালমা বেগম আবারও পুত্র হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদেরকে আজও পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারার বিষয়টি রহস্যজনক। পুলিশ অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টায় আছে।’ তিনি বলেন, ‘এই হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনে আপনারা সজাগ থাকবেন।’ সংবাদ সম্মেলনে এসআই আকবরসহ জড়িতদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তসহ ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়।

গতকাল রবিবার অপরাহ্নে নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়াস্থ গুলতেরা মঞ্জিলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় বলা হয়, রায়হান আহমদ হত্যায় জড়িতদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে পরিবার এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে হরতাল ও সড়ক অবরোধসহ দুর্বার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রায়হানের মামাতো ভাই ও স্থানীয় মুরব্বি শওকত হোসেন। তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হলো:এসআই আকবর ভুঁইয়াকে গ্রেফতারে আইজিপির নির্দেশনা, পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য ও নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলেছুর রহমান কামরান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান ও রায়হানের সত্ বাবা হাবিবুল্লাহসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

গত ১০ অক্টোবর রাতে রায়হানকে ‘পুলিশী নির্যাতনে’ হত্যা করা হয় বলে পরিবারের দাবি। রায়হান নগরীর আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তার তিন মাসের এক মেয়ে রয়েছে। তিনি নগরীর রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিত্সকের চেম্বারে কাজ করতেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর এসআই আকবরসহ ৪ পুলিশকে বরখাস্ত ও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়।

রায়হান হত্যা পূর্বপরিকল্পিত!

এদিকে রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আসামি বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আকবর (বরাখাস্তকৃত) এখনো পলাতক রয়েছেন। ঘটনার আট দিন পরও আকবরকে পুলিশ খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। বিভিন্ন সূত্র জানায়, রায়হান হত্যা পূর্বপরিকল্পিত এবং রায়হান নাকি এসআই আকবরের পূর্বপরিচিত ছিলেন। লেনদেন সম্পর্কিত কোনো ঘটনার জেরে এই অঘটন কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে অনেকেই বলেছেন।  সূত্র মতে, এসআই আকবরকে এখন রক্ষার জোর লবিং চলছে।