যশোর সদর উপজেলা নির্বাচনের তিন দিন আগে শনিবার গভীর রাতে বিএনপি কার্যালয় ও জেলা নেতাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। শহরের বিভিন্ন স্থানে জেলা বিএনপির সাত নেতার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। একই সময় লালদীঘির পাড়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নেতারা। যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন আগামীকাল মঙ্গলবার। এ নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিএনপি অভিযোগ করছে। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নার্গিস বেগম, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদস্য সচিব সাবেরুল হক সাবু, সদস্য মিজানুর রহমান খান, আনিচুর রহমান মুকুল, গোলাম রেজা দুলু ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার পর থেকে ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দুর্বৃত্তরা একাধিক প্রাইভেট কার, ২০টির অধিক মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকিধমকি শুরু করে।
জেলা যুবদলের প্রচার সম্পাদক এসকেন্দার আলী জনির অভিযোগ, রাত ২টার দিকে প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে দুই জন এসে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়ায়। ঐ সময় তিনি উপনির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা থেকে ভোটারের স্লিপ তৈরির কাজ শেষে বের হন। তারা কোমর থেকে পিস্তল বের করে হুমকি দেয়। হামলাকারীদের একজন বলে, ‘তোকে চার খণ্ড করে ফেলব, ভোট করা বের করছি।’ তিনি বলেন, এই সময় আরো ২০টি মোটরসাইকেল ও দুটি প্রাইভেট কার এসে দাঁড়ায় এবং আরোহীরা নেমে দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং ভেতরে কয়েক জনকে মারপিট করে। তারা ভোটার তালিকা ও স্লিপ নিয়ে যায়।
তবে বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদার। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি। আমার ধারণা ভোটে জিততে পারবে না জেনে তারা নিজেরাই এমন করে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে। অপরদিকে, যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, রাতে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পেয়েই ঘটনাস্থলগুলোতে পুলিশ পাঠানো হয়। বিএনপি লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
