মেধা ও মননের অপূর্ব সমাহার ছিল শিশু রাসেলের মনে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুবিজুর রহমানের ছোট ছেলে শহিদ শেখ রাসেলের গৃহশিক্ষিকা গীতালি দাশগুপ্তা বলেছেন, মেধা ও মননের অপূর্ব সমাহার ছিল শিশু রাসেলের কচি মনে। তার শিশু মন ছিল মানবিকতায় ভরা। শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার রাতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবটিম আয়োজিত ওয়েবিনারে তার গৃহশিক্ষিকা এভাবেই নিজের ছাত্রের মেধা ও কোমল মনের অকৃত্রিম প্রশংসা করেন।

একবার শেখ রাসেল অঙ্ক করাতে যে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে গীতালি দাশগুপ্তা জানান, যখন রাসেলকে বলা হয়েছে অঙ্কগুলো না করলে তারা কষ্ট পাবে, তখন অঙ্কগুলো যাতে কষ্ট না পায়, তাই ঝটপট অঙ্ক করেছিল রাসেল। শেখ রাসেলকে পড়ানোর প্রসঙ্গে গীতালি দাশগুপ্তা বলেন, ‘আমার সামনে পরীক্ষা থাকায় শেখ রাসেলকে পড়াব না বলে আমি মানা করে দিই। এই কথা শুনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বললেন, ৩০ মিনিট? আমি বললাম, তা-ও সম্ভব না। তিনি আবার বললেন, ২০ মিনিট? আমি চুপ করে রইলাম, মানে ২০ মিনিটও সম্ভব না। তারপর তিনি আবারও বললেন, ১৫ মিনিট? তখন আমার কাছে মনে হলো, একজন মা তার ছেলের জন্য মাত্র ১৫ মিনিট সময় চাইছেন, এই সময়টুকু তো আমার দেওয়া উচিত। আমি চেঞ্জ হয়ে গেলাম। তারপর আমি কাকিমার (বঙ্গমাতার) দিকে তাকিয়ে বললাম, এই রাস্তায় কি বাস চলে? নইলে আমি যাতায়াত করব কীভাবে? আমার তখনো এই বোধটুকু নেই যে আমি কাকে যাতায়াতের কথা বলছি। তখন বঙ্গমাতা বললেন, আপনি পড়াবেন? তাহলে যাতায়াতের ব্যবস্থাটুকু আমিই করব।’

কথাসাহিত্যিক ও শিশু একাডেমির সাবেক চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন বলেন, ‘আমি তাকে স্বাধীনতার স্বপ্নের প্রতীকী শিশু হিসেবে দেখি।’

বিশিষ্ট অভিনেতা ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শিশু রাসেল মায়ের কাছে যাবে বললে ওকে মায়ের কাছে নিয়ে হত্যা করে ঘাতকেরা। এটি কোনো তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়! এটি কিন্তু পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত।

আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘আমরা জানি না শিশু রাসেল বড় হয়ে কী হতো, কী করতে পারত। কিন্তু আমরা জানি, তার পরিবার শুধু মানুষদের দিয়েই গেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ বলেন, ‘শেখ রাসেল যেদিন জন্মগ্রহণ করল, সেদিন শেখ রেহানার মতো আমার কাছেও মনে হয়েছে, আমারও ছোট্ট ভাই হয়েছে।’