মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা বাস্তবায়নে সাধারণ শিক্ষায় অধ্যয়নরত প্রতিজনকে ১ হাজার টাকা এবং মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ১ হাজার ৫০০ টাকা বৃত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। ২০১২-১৩ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৪৬০ জনকে এই ছাত্রবৃত্তি দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়েছে। বৃত্তিপাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ লক্ষ্যে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বৃত্তিপ্রাপ্তদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে।
কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও কাজী ফিরোজ রশীদ অংশ নেন। কমিটির মাত্র তিন জন সদস্য অংশ নেওয়ায় আলোচ্যসূচির কয়েকটি বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা যায়নি। কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের জানান, কমিটিতে কয়েক জন বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য রয়েছেন। বয়স ও করোনার কারণে অনেকেই বৈঠকে আসতে পারেন না। তারা যদি ভার্চুয়ালি অংশ নিতে পারেন, তাহলে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা প্রাণবন্ত হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না, এ ব্যাপারে স্পিকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে।
গতকালের বৈঠকে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব করা হয়। কমিটির সভাপতি বলেন, ‘একসময় যখন মুক্তিযোদ্ধারা থাকবেন না, তখনো যাতে তাদের স্মরণ করা হয় সে কারণেই মুক্তিযোদ্ধা দিবস করার প্রস্তাব করেছে সংসদীয় কমিটি। সরকারি ঘোষণা না থাকলেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। সরকার যদি গেজেট করে একটা দিবস ঘোষণা করে, তখন সেটা পালনের একটা বাধ্যবাধকতা থাকে। আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি, তারা সেটা মন্ত্রিসভায় তুলবে। পরে মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আয়-ব্যয় এবং ব্যাংকে গচ্ছিত তহবিলের হিসাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত ব্রিটিশ সৈন্যদের ব্রিটিশ কর্তৃক যেভাবে আজও স্মরণ করা হয়, বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সেভাবে চিরস্মরণীয় করে রাখতে পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে কমিটি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব বিবরণী এবং আয়-ব্যয়ের অডিট প্রতিবেদন আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা যেন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে মাসিক সম্মানী ৮ হাজার টাকা বৃদ্ধি করে মোট ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত কিছু অনিয়ম ও নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট সংসদীয় সাবকমিটির প্রতিবেদন আগামী দুই মাসের মধ্যে মূল কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে বিভিন্ন সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিস্তারিত তথ্যও আগামী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলেছে কমিটি।
