বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস ও বাংলাদেশ

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ২১:১২

মাহমুদ তানজীদ

বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস আজ। ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় ২০ অক্টোবরকে ‘বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতি পাঁচ বছর পর পর ২০ অক্টোবর জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলো এ দিবস পালন করবে।

বাংলাদেশে অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে পরিসংখ্যানচর্চা বিস্তার লাভ করে। এজন্যই বাংলাদেশে পরিসংখ্যানের জনক বলা হয় অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেনকে। তার চেষ্টায় ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে প্রথম পরিসংখ্যান বিষয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালু হয়। পরে ১৯৫০ সালে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান বিভাগ চালু করে। এছাড়া পরিসংখ্যানের যথাযথ ব্যবহারের জন্য ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় পরিসংখ্যান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (আইএসআরটি)। অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন এই ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালক।

স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে অধ্যাপক খন্দকার মনোয়ার হোসেনের অবদানে ১৯৬১ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগ প্রতিষ্ঠা হয় এবং তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ১৯৬৮ সালে অধ্যাপক ড. মোস্তাফার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় গণিত ও পরিসংখ্যান বিভাগ এবং তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু এবং পরিসংখ্যান বিভাগ ছিল এগুলোর মধ্যে একটি।

বাংলাদেশে বর্তমানে সাধারণ ও বিশেষায়িত মোট ৪০টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে, যার মধ্যে ১৮টিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পরিসংখ্যান বিষয়ে পাঠদান করা হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার পরিসংখ্যান বিষয়ের উচ্চতর ডিগ্রি যেমন এমফিল, পিএইচডি গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একমাত্র ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত পরিসংখ্যান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা আছে। পরিসংখ্যান বিষয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা,  কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের মূল বিষয়বস্তুর সঙ্গে একটি অথবা দুটি সহায়ক কোর্স হিসেবে পাঠদান করানো হয়। বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি কলেজে পরিসংখ্যান বিষয়ে পাঠদান হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো উচিত।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়শীল দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে পরিসংখ্যানের ভূমিকা গ্রহণযোগ্য। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সেক্টরে নির্ভুল ও সময়মতো পরিসংখ্যানের প্রয়োগ খুব দ্রুতই উন্নয়নশীল থেকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে সাহায্য করে। রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে ও প্রকল্প গ্রহণে পরিসংখ্যানচর্চা একটি অতীব জরুরি বিষয়। একটি দেশের উন্নয়ন সূচক, বিভিন্ন সেক্টরের নীতিনির্ধারণে, এসডিজি, এমডিজি অর্জনে পরিসংখ্যান অপরিহার্য।

দেশের সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সঠিক প্রকল্প গ্রহণে পরিসংখ্যানের ভূমিকা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিসংখ্যান শাখা ও অন্যান্য আর্থিক ও বিমা কোম্পানিতে পরিসংখ্যানবিদদের নিয়োগ অতি জরুরি। পরিসংখ্যানকে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, গবেষণা আরো সম্প্রসারিত করা প্রয়োজন।

এছাড়া পরিসংখ্যান বিষয়ে পড়ালেখা করে ডাটা সায়েন্টিস্ট, ডাটা অ্যানালিস্ট, ডাটা আর্কিটেক্ট, ডাটা প্রকৌশলী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার অফুরন্ত সুযোগ রয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে ডাটা সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়