বিচার প্রক্রিয়ার সর্বস্তরে স্বচ্ছতা আনতে সুপ্রিম কোর্ট বদ্ধপরিকর :প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বিচারপ্রার্থী জনগণের বিচারে প্রবেশাধিকারসহ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও বিচার প্রক্রিয়ার সর্বস্তরে স্বচ্ছতা আনতে সুপ্রিমকোর্ট বদ্ধপরিকর। তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হলে ডিজিটাল প্রযুক্তির দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারপ্রার্থী জনগণের দৌড়গোড়ায় তথ্য এবং সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট অনেক দূর এগিয়েছে। গতকাল সোমবার ‘সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ কজ লিস্ট’ অ্যাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এই অ্যাপটি হবে বিচারপ্রার্থী সাধারণ জনগণ ঢাকায় না এসে তার মামলা সার্চ করে মামলার হালনাগাদ এবং ফলাফলসহ সর্বশেষ তথ্যাদি তাত্ক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন। এটি মোবাইল ফোনে ব্যবহারের জন্য উপযোগী একটি অ্যাপস। আমি দৃঢ়ভাব বিশ্বাস, করি আইনজীবীগণ তাদের মোবাইলফোনের মাধ্যমে অতি সহজে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। সুপ্রিমকোর্টের কাগজে ছাপানো দৈনন্দিন কার্যতালিকার বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার জন্য এই অ্যাপটি ব্যবহার করা সহজ হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশে খুব কম কাগজ ব্যবহার করে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, এটা আমাদের এক বিরাট সাফল্য। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার সরকার গঠন করার পরে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বার উন্মোচন করেন। তার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে আজ ডিজিটাইলেজশনের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে বিচার বিভাগও পিছিয়ে নাই। জনগণের কাছে বিচার ব্যবস্থার তথ্য পৌছে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে আজকে যে অ্যাপ উদ্বোধন করা হলো সেটা একটা বিরল দৃষ্টান্ত এবং এর সাফল্য বিচার বিভাগের সাফল্যকে তরান্বিত করবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল এ.এম আমিন উদ্দিন বলেন, এ অ্যাপসটি ব্যবহার করে বিচারপ্রার্থী জনগণের দৌরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ হলো। সাধারণ মানুষ তাদের মামলা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য এখান থেকে পাবেন।

সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের সঞ্চলনায় ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সুপ্রিম কোর্টের তথ্যপ্রযুক্তি শাখা ও অধস্তন আদালতের বিচারক মইন উদ্দিন কাদি অ্যাপটি নির্মাণ করেছেন।