থাইল্যান্ডে সরকারের পতনের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন থামাতে জরুরি অবস্থা জারি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার। দেশটির সরকার এবং রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ব্যাপক মাত্রা পেয়েছে। গতকালও দেশটির রাজধানী ব্যাংককে উত্তাল বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশের জলকামান ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে হাজারে হাজারে মানুষ বিক্ষোভস্থলের দিকে যায়। তারা সরকারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকে। অপরদিকে, ব্যাপক বিক্ষোভ সত্ত্বেও পদত্যাগ না করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা এতদিন অনড় ছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে শেষ পর্যন্ত মাথা নত করতে হলো সরকারকে। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র অনুচা বুরাপাচাইসিরি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘চলমান সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসতে আগ্রহী। আসুন একটা সমাধান বের করি। কারণ বর্তমান অবস্থার সুযোগ নিয়ে সুযোগসন্ধানীরা দেশের ক্ষতি করতে পারে।’
এদিকে, থাইল্যান্ড সরকারের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপের অভিযোগ উঠেছে। গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে জারিকৃত জরুরি অবস্থার আওতায় দেশটির অন্তত চারটি গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে থাই পুলিশ। পাশাপাশি বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি এই ঘোষণার পর দেশটির মিডিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভ বন্ধ করতে গত বৃহস্পতিবার জনসমাবেশের ওপর দেশটির সরকার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও প্রতিদিনই বিক্ষোভকারীরা হাজারে হাজারে রাজধানী ব্যাংককে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে আসছেন। গতকাল বেশ কয়েকটি স্থানে পুলিশ-বিক্ষোভকারী মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে এবং কোথাও কোথাও ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছুক্ষণ পর আবার তারা এক স্থানে জড়ো হয়ে শ্লোগান দিতে শুরু করে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ১৩ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৪ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ব্যাংককে পুলিশের উপপ্রধান পিয়া তাউইচাই বলেন, যারা আইন ভেঙেছে আমরা তাদের প্রত্যেকের বিচার করব।
উল্লেখ্য, সংবিধান সংশোধন করে রাজতন্ত্রের অবসান, গত বছরের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুতের পদত্যাগের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন সরকারবিরোধীরা। ২০১৪ সালে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত গত বছরের নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসেন। বিরোধীরা সেই নির্বাচনকে ‘সাজানো’ বলে দাবি করলেও প্রায়ুতের দাবি, তা সুষ্ঠু হয়েছে। -বিবিসি, এনডিটিভি
