ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিদেশ থেকে আমদানিকৃত উড়ন্ত মশার ওষুধ ফর্মুলেশনের পর ফিল্ড টেস্টে উত্তীর্ণ না হওয়ায় সেটি ফেরত দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ফর্মুলেশনের দায়িত্ব পাওয়া এসিআই ফর্মুলেশন লিমিটেডের সরবরাহকৃত ১ লাখ লিটার ওষুধের কার্যকারিতায় ঘাটতি থাকায় মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নির্দেশে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের ভান্ডার সূত্রে জানা যায়, বিদেশ থেকে সিটি করপোরেশন যে ওষুধ আমদানি করে, সেটি সরাসরি প্রয়োগ করা যায় না। এটি ফর্মুলেশন করে তারপর প্রয়োগ করতে হয়। এর জন্য ডিজেল ও ওষুধের ফর্মুলেশন (মিশ্রণ) সঠিক হতে হয়। আর এই কাজটি করার জন্য সিটি করপোরেশন দ্বিতীয় পক্ষ দিয়ে কাজ করাতে হয়, যার কারণে উড়ন্ত মশা মারার ওষুধ ফর্মুলেশন করতে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ৬ লাখ ৪০ হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইডিং ওষুধের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে ডিএসসিসি। এতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এসিআই ফর্মুলেশন কোম্পানি লিমিটেড কাজটি পায়। কিন্তু তাদের সরবরাহকৃত ওষুধ কার্যকর না হওয়ায় সেটি ফেরত দিয়েছে সিটি করপোরেশন।
জানা যায়, ফরমুলেশনকৃত ওষুধ পাওয়া গেলে সেটি ফিল্ড টেস্ট করা হয়। এজন্য সিটি করপোরেশন এক বর্গফুট আয়তনের তিনটি খাঁচার মধ্যে ৫০ বা ১০০টি করে মশা বন্দি করে। এরপর তিন ফুট দূর থেকে ঐ ওষুধ তৈরি করে তার চারদিক থেকে ফগিং করা হয়। ৩০ মিনিট পর সেই খাঁচাগুলোতে কী পরিমাণ মশা মরেছে সেটি দেখা হয়। এই ফল গণনার পর আবারও ২৪ ঘণ্টা মশাগুলোকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। তাতে যদি ৮০ ভাগ মশা মরে, তাহলে ধরে নেওয়া হয় ঐ ওষুধ কার্যকর। কিন্তু এসিআই ফর্মুলেশন কোম্পানির সরবরাহকৃত ওষুধের ফিল্ড পরীক্ষার তিনটি নমুনার মধ্যে একটিতে মাত্র ৩৫ শতাংশ মশা মরেছে। ফলে প্রাথমিক এই পরীক্ষায় ওষুধগুলো উত্তীর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা প্রথম দফায় ফর্মুলেশন করা ওষুধে ত্রুটি পাওয়ায় সেটি গ্রহণ করিনি। সামান্য ত্রুটি থাকলেও মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে আমরা সেটি ফেরত দিয়েছি। এসিআই ফর্মুলেশন থেকে আমাদের যে ওষুধ দেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের ফিল্ড পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি। তবে আমরা দ্বিতীয় চালানে তাদের কাছ থেকে ১ লাখ লিটার ওষুধ নিয়েছি। সেটি উত্তীর্ণ হয়েছে।’ আগেও এভাবে পরীক্ষা করে নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি তো আগে ছিলাম না। তবে এবার আমরা মশক দমনকে গুরুত্বসহকারে নিয়েছি।
