সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে নিরীহ এলাকাবাসীকে রক্ষার দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কুমারজানি এলাকার মানুষ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এলাকাবাসীর পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম মিয়া, মো. আলমগীর, মোখলেছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলমসহ এলাকার অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, একদল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর কারণে এলাকার মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। নিরীহ এলাকাবাসীকে ভুয়া মামলায় ফেলে হয়রানিও করা হচ্ছে। এমনকি অনেক নিরীহ এলাকাবাসী এদের মামলায় জেলও খেটেছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে ইব্রাহিম মিয়া বলেন, এই চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রুপের হাত থেকে বাঁচতে আমরা স্থানীয় প্রশাসনেরও সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু ওই সন্ত্রাসী গ্রুপটি প্রশাসনকে হাত করে তাদের অত্যাচার অব্যাহত রেখেছে। এদের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাবা সিরাজ মিয়া এই গ্রুপটিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। তিনি বলেন, এদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি হলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় না। ইব্রাহিম মিয়া নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এলাকায় আমার একটা সিএনজি স্টেশন আছে। সেখানে গিয়েও তারা চাঁদা দাবি করছে। না দিলে স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে। ইতিমধ্যে আমি তাদের কিছু টাকা চাঁদাও দিয়েছি। তার পরও তারা আরো চাঁদা দাবি করছে। এমন অবস্থা এলাকার প্রতিটি মানুষের। অনেক নিরীহ মানুষের জমিও জাল দলিল করে দখল করে নেয়। জমি ফেরাতে গেলে তাদের মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হয়।
এলাকাবাসীর পক্ষে তারা জানান, বিষয়টির সুরাহা ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের জন্য আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এদের অত্যাচারে বেশ কয়েকজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা মূলত বিএনপির লোক হলেও সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি এলাকায় দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
