মার্কিন গোয়েন্দা বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইন্দোনেশিয়া

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২১:০২

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। আর সে কারণে ইন্দোনেশিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু জাকার্তা একটি নিরপেক্ষ দেশ বিধায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।-আল জাজিরা

মার্কিন বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা বিমানকে অবতরণের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। বিষয়টির সঙ্গে অবগত ইন্দোনেশিয়ার চার জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ খবর নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ঐ গোয়েন্দা বিমানগুলো দেশটিতে অবতরণ ও সেখান থেকে জ্বালানি নেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিল। 

বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পি-৮ পোসেইডন মেরিটাইম সার্ভিলেন্স প্লেন নামে পরিচিত। এগুলো মূলত দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের সামরিক তত্পরতার প্রতি নজর রাখে। মার্কিন কর্মকর্তারা এই বিমানগুলোকে সেখানে অবতরণ ও জ্বালানি নেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে জাকার্তা। প্রস্তাবটি নাকচ হওয়ার আগে জাকার্তার উচ্চ পর্যায়ে দফায় দফায় যোগাযোগ করেছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কিন্তু শেষপর্যন্ত তাতে কোনো কাজ হয়নি। এ ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস অফিস এবং জাকার্তায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসও এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের কোনো জবাব দেয়নি। শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কোনো বিবৃতি প্রদানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। আর সেই প্রতিযোগিতায় ইন্দোনেশিয়াকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ইন্দোনেশিয়া বরাবরই একটি নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত। তাদের পররাষ্ট্রনীতিতেও তেমন নীতিরই উল্লেখ রয়েছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব থেকে পিছিয়ে এসেছে ইন্দোনেশিয়া। চলতি বছরের কোনো একসময়ে মার্কিন ঐ গোয়েন্দা বিমানগুলোর অবতরণ ও জ্বালানি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।