সৈয়দপুরে দুর্গাপূজার মেলা ঘিরে বেড়েছে মৃিশল্পীদের ব্যস্ততা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৮

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

দুর্গাপূজার মেলাকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে সৈয়দপুরের চওড়া পালপাড়ার মৃিশল্পীদের। দুর্গাপূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ব্যস্ততার মাত্রাও ততই বাড়ছে। গোটা গ্রাম জুড়ে জ্বলছে চুল্লি আর রং করার কাজ। চুল্লিতে পোড়ানো হচ্ছে মাটির খেলনাসামগ্রী। করোনা মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হচ্ছে দুর্গোত্সবে। তবুও পূজার মেলায় ব্যাপক চাহিদা থাকছে মৃিশল্পের। সরেজমিনে চওড়া পালপাড়ায় দেখা যায়, মৃিশল্পীদের মহাব্যস্ততা। ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। মাটির ব্যাংক তৈরি করছিলেন নিরঞ্জন পালের স্ত্রী ইরুনি পাল। তিনি বলেন, শুনলাম এবার পূজায় মেলা হবে না। তবুও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ডার মিলছে। মণ্ডপগুলোতে বিক্রি হবে মাটির খেলনা, ব্যাংক ও মাটির তৈজসপত্র। এরই মধ্যে দুই ট্রাক মৃত্পাত্র নিয়ে গেছেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা। তুলি রানি মাটির খেলনায় রং ও বার্নিস করছিলেন। তিনি বলেন, পালপাড়ার সাড়ে ৩০০ পরিবার এ কাজের সঙ্গে জড়িত। শ কিংবা ডজন হিসাবে আমরা এসব খেলনাসামগ্রী বিক্রি করে থাকি। মোটামুটি খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে। আমাদের তৈরি খেলনা চলে যাচ্ছে রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, জয়পুরহাটের বিভিন্ন পূজামণ্ডপগুলোতে। ঢাকাতেও যাচ্ছে কিছু। এলাকার কুমাররা জানান, আগে আমরা পাশের চওড়া নদী থেকে মৃিশল্পের কাঁচামাল কালো মাটি সংগ্রহ করতাম। এসবের জন্য কোনো টাকা-পয়সা খরচ হতো না। কিন্তু এখন ১০০ মাটির দলা ২ হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এই মৃিশল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। কাশিরাম বেলপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী বলেন, মৃিশল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রণোদনা ও ঋণসহায়তা প্রয়োজন।