গৌরীপুরে শুভ্র হত্যার ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৪

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৩

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তৃতীয় দিনও উত্তাল ছিল গৌরীপুর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মধ্যবাজার কৃষ্ণচূড়া চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ। অপরদিকে পৌর মেয়রের বাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছেন পৌরসভার কর্মচারীরা। এদিকে শুভ্র হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গৌরীপুর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় সোমবার রাতে শুভ্রর ছোট ভাই আবিদুর রহমান প্রান্ত বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির (একাংশের) যুগ্ম আহ্বায়ক ও মইলাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদকে। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৭/৮জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ, মইলাকান্দা ইউনিয়নের পশ্চিম কাউরাট গ্রামের চান মিয়ার পুত্র রাসেল মিয়া, ইউনুছ আলীর পুত্র জাহাঙ্গীর আলম ও আব্দুল খালেকের পুত্র মজিবুর রহমানকে  গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই

শহরের কৃষ্ণচূড়া চত্বর ছাড়াও বিকালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ময়মনসিংহ-৩ আসনের এমপি মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমন মৃত্যু কখনও মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করে মামলার দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার দাবি জানান।

নিহতের মা খালেদা আক্তার অভিযোগ করেন, নির্বাচনে আসাই আমার পুত্রের জন্য কাল হলো। সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। বর্তমান মেয়রের সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা ছিলো। স্ত্রী তাহমিনা আক্তার চুমকী জানান, মাস খানেক ধরেই তিনি (শুভ্র) বলছিলেন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে! আমাকে ওরা মেরে ফেললে, তুমি তো বিধবা হয়ে যাবে। আজ সেই কথাই সত্য হয়ে গেলো!

এদিকে গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, শুভ্র আমার পুত্রতুল্য। নির্বাচনে সে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে, আমি এ পৌরসভায় কাউন্সিলর আর মেয়র দু’পদে ১৭বছর ধরে জনপ্রতিনিধিত্ব করছি। জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে, প্রতিহিংসা নয়। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর গৌরীপুর পৌরসভার পানমহালে পৌর মেয়র প্রার্থী হিসাবে গণসংযোগ কালে দুর্বৃত্তরা শুভ্রকে কুপিয়ে হত্যা করে।