অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন নম্বর কমিয়ে আনা হবে; ২০০ নম্বরের পরিবর্তে এবার ১০০ নম্বরে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এছাড়াও পূর্বেকার ভর্তি পরীক্ষাগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় হলেও এবার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যে বিভাগের শিক্ষার্থী ঐ বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে তাদের সিট পড়বে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে একযোগে ঢাকায় আসতে হচ্ছে না।
করোনা সংক্রমণের কারণে এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় এ নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এজন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূরের নেতৃত্বে তৈরি করা একটি বিশেষ সফটওয়্যার কাজে লাগানো হতে পারে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, এবারের পরীক্ষার তারিখ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ফলাফল ঘোষণার পর ঠিক করা হবে। তবে আমরা আজকে (মঙ্গলবার) কিছু মেজর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরীক্ষার বিকেন্দ্রীকরণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্যবার ঢাকাকেন্দ্রিক পরীক্ষা হলেও এবার আমরা বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। ফলে ঢাকাকেন্দ্রিক না থেকে বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া সম্পন্ন করব। বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বরের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যান্যবার ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হলেও এবার আমরা ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মধ্যে ২০ নম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। বাকি ৮০ নম্বরের মধ্যে ৩০ এমসিকিউ ও ৫০ নম্বর বর্ণনামূলক থাকবে। পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারণ এখনো হয়নি বলে তিনি জানান। পরবর্তী ডিনস মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ডিনস কমিটির মিটিংয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সব অনুষদের ডিনরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে না নেওয়ার পক্ষে যে মতামত দিয়েছেন সে বিষয়ে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভার বিষয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘আমরা ভর্তি পরীক্ষা নেব। ডিনস কমিটির মিটিংয়ে সব ডিন এ মতামত দিয়েছেন। ডিসেম্বরের পরে এইচএসসির ফলাফল হলে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কোনো ডিনই মতামত দেননি। তাই অনলাইনে পরীক্ষা না নিয়ে আমরা বরাবরের মতো ভর্তি পরীক্ষা নেব। আমরা এসএসসি এবং এইচএসসির ফলাফল দেখে কী পরিমাণ নম্বর ধরা হবে, তা আরো মিটিং করে ঠিক করব।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ডিনস কমিটিতে কিছু সুপারিশ হয়েছে। এসব সুপারিশ পরবর্তীতে জেনারেল অ্যাডমিশন কমিটিতে গিয়ে পাশ হবে। তখন আমরা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারব।
