শাহিনুর ও ইয়াসিন দম্পতির ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশু মরিয়মের দাফনের সময় জীবিত ফেরার ঘটনায় কর্তব্যরত চিকিত্সকদের কিছুটা ব্যর্থতা ছিল। তবে তাদের দায়িত্বে অবহেলা ছিল না বলে দাবি করেছেন ডিএমসির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিক্যালের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
ডিএমসির পরিচালক বলেন, এ ঘটনায় চিকিত্সকদের কিছুটা ব্যর্থতা থাকলেও তাদের গাফিলতি ছিল না। এটা ইচ্ছাকৃত ঘটনা নয়। তাদের প্রচেষ্টা ছিল নবজাতককে বাঁচানোর। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় শিশুটি অপরিণত ছিল। প্রথমে শিশুটির মাকে বাঁচানো গেছে। তবে বাচ্চা বেঁচে ছিল এমন কোনো লক্ষণ তখন (লাইফ অফ সাইন) দেখা যায়নি। প্রটোকল অনুয়ায়ী ৪৫ মিনিট ধরে শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। যখন চিকিত্সকেরা শিশুটির কোনো স্পন্দন পাননি, তখন তারা মৃত ঘোষণা করেছেন। আসলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নবজাতক, সাপে কাটা রোগীদের মধ্যে এমন ঘটনা দেখা যায়। অনেকক্ষণ ধরেই বেঁচে আছে এমন লক্ষণ দেখা যায় না, কিন্তু পরে তারা বেঁচে যায়। তবে তা খুব বিরল।
ডিএমসির পরিচালক বলেন, ‘বর্তমানে শিশুটিকে সর্বোচ্চ চিকিত্সা দিয়ে সুস্থ করার প্রচেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। সেই সঙ্গে শিশুটির মাকেও চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন। আমরা চেষ্টা করছি বাচ্চাটিকে পুরোপুরি সুস্থ করে যাতে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। এটি এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং কমিটমেন্ট। আপনারা জানেন, এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি রিটও হয়েছে পরবর্তী সময়ে যদি আরো তদন্ত করার বিষয় আসে, সেগুলো করে তারপরই হয়তো কোনো একটি বিষয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ঘটনায় সেই দিনই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে দেখছেন এবং জানার চেষ্টা করছেন।
শিশুটি দাফনের সময় নড়ে ওঠার পর তার পরিবার ডিএমসিতে আনলে ওয়ার্ডবয়রা অন্যখানে ভর্তি করানোর কথা বলে—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক। যারা এমন করেছে, ঐ ওয়ার্ডবয়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় শিশু বিভাগের ডাক্তার অধ্যাপক মনীষা ব্যানার্জি বলেন, ‘আমাদের দেশে ২৮ সপ্তাহের আগে একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হয় না। তবে এই শিশু ২৬ সপ্তাহের ছিল। বাচ্চা জন্মের পর শ্বাস-প্রশ্বাস, নড়াচড়া কিছুই ছিল না। তারপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ডাক্তার ডেথ সার্টিফিকেট দিয়েছে। তদন্তকারী বোর্ডে আমরা যারা ছিলাম, আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ডাক্তাররা আরো কিছু স্টেপ নিলে বাচ্চাটি বেঁচে আছে বুঝতে পারত, আমরা ডায়াগনোসিস করতে পারতাম। আসলে অনিচ্ছাকৃত একটি ভুলের মধ্যে এই বাচ্চাটি পড়েছে।’
বাচ্চাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘শিশুটি এই মুহূর্তে অক্সিজেন সাপোর্টে রয়েছে। স্যালাইন চলছে, অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হচ্ছে। আমাদের প্ল্যান আছে বাচ্চাটি যদি এই অবস্থায় থাকে, তবে আমরা খুবই সামান্য পরিমাণ খাবার দেব। বাচ্চাটির অবস্থা আগের চেয়ে অবনতি হয়নি। তবে যদি শিশুটি সত্যি বেঁচে যায়, তাহলে সেটি মিরাকেল হবে। আমরা আশাবাদী।’
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর ভোরে শাহিনুরের এক মেয়ে বাচ্চা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিত্সকেরা জানান, বাচ্চাটি মৃত অবস্থায় হয়েছে। এরপর হাসপাতালের আয়া মৃত বাচ্চাটিকে প্যাকেট করে বেডের নিচে রেখে দেয় এবং কোথাও নিয়ে দাফন করার জন্য বলে। পরে দাফনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে নবজাতক কেঁদে ওঠে।
