নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জাভেদ জারিফ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, তেহরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও তাদের এ অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু করার কোনো ইচ্ছা নেই। মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি একথা বলেন। খবর তেহরান টাইমস ও পার্স টুডের।
জাভেদ জারিফ বলেন, তাদের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা এ অঞ্চলে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে ধাবিত হবেন। এ ধরনের কোনো হীন মানসিকতা তাদের নেই। তিনি বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছে। বিপুলসংখ্যক বিদেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি চরমপন্থি এবং সন্ত্রাসবাদের বিপজ্জনক উত্থানও এখানে ঘটানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যকে পরিণত করা হয়েছে সর্বাধুনিক অস্ত্রের গুদামে। আরব দেশগুলোর উদ্দেশে তিনি বলেন, বিপুল অর্থের বিনিময়ে সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কেনা যায়। কিন্তু তা দিয়ে কখনোই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা আনা যায় না। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে শান্তির প্রয়োজনে শান্তির পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বিগত কয়েক দশকের উদাহরণ টেনে বলেন, আমাদের আগেকার সময়গুলোকে বলা যেতে পারে তেমন একটি শান্তির ছিল না। বেশ কয়েকটি যুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু তাতে আদৌ কি আমরা কোনো সুফল বয়ে আনতে পেরেছি? এর জবাবে বলব না। কেননা যুদ্ধ কখনোই শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। জাভেদ জারিফ বলেন, আমি বলছি না যে কোথাও কোনো অশান্তি নেই। অশান্তি আছে, যুদ্ধ আছে—কিন্তু তা কখনোই কোনো কিছুর সুন্দর সমাধান হতে পারে না।
একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। এছাড়া তারা ২৯টি ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছে যেখানে ৩০০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। প্রায় সব সময় ইরানের পানিসীমার কাছে মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ টহল দেয়। তারা বহুসংখ্যক ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেছে। তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যত অস্ত্র বিক্রি হয়েছে তার চার ভাগের এক ভাগ কিনেছে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং আমেরিকা হচ্ছে প্রধান বিক্রেতা।
