ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা (এমএসএমই) নান জটিলতায় ব্যাংকের ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পণ্য বিপণন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই খাতের উদ্যোক্তাদের একটি বিরাট অংশ করোনাকালে চলতি মূলধন হারিয়ে ফেলেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগের সক্ষমতা না থাকায় তারা প্রণোদনার সুফল থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এ খাতের জন্য বিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে ঋণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলেন, এ লক্ষ্যে বিসিককে ৮০০ কোটি এবং এসএমই ফাউন্ডেশনকে ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে একটি ঋণ তহবিল গঠন করতে হবে। এ তহবিল থেকে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করে করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। গতকাল বুধবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতে কোভিড-১৯-এর প্রভাব এবং জাতীয় এসএমই নীতি ২০১৯ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে উদ্যোক্তারা এ কথা বলেন। জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ (নাসিব) এবং অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সালাহ্উদ্দিন মাহমুদ এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। নাসিবের সভাপতি মির্জা নুরুল গণী শোভন এতে সভাপতিত্ব করেন। মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, কোভিড-১৯-এর ফলে অপ্রাতিষ্ঠানিক শিল্প খাতসহ তৃণমূলের এমএসএমই শিল্প খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২৫ শতাংশ হলেও ব্যাংকিং জটিলতার কারণে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় পর্যাপ্ত ঋণসুবিধা পাচ্ছেন না। এসএমই খাতের জন্য বরাদ্দকৃত প্রণোদনার ২০ হাজার কোটি টাকার অধিকাংশ এখনো অব্যবহূত রয়ে গেছে। তারা দ্রুত অর্থায়নের সুবিধা নিশ্চিত করে এমএসএমই খাতকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহ্উদ্দিন মাহমুদ বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের কাছে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সুবিধা পৌঁছে দিতে শিল্প মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সাল নাগাদ জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত করতে জাতীয় এসএমই নীতিমালা-২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় গঠিত সাতটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে এ নীতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে একটি এসএমই উইং গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
