রতন কুমার আচার্য্য, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা
বেড়া উপজেলায় এলজিইডির আওতাধীন বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া সড়কটি বিভিন্ন স্থানে ভেঙে বেহাল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সড়কটির কিছু অংশ ডুবে রয়েছে পানিতে। আর কিছু অংশে কচুরিপানা জমে ঢেকে গেছে সড়কের চিহ্ন। এতে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি হাঁটার উপায়ও নেই বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি ভেঙেচুরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দুই পাশের বিলের পানিতে সড়কটির কিছু অংশ ডুবে রয়েছে। সড়কের অনেক স্থান ঢেকে আছে কচুরিপানায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বেড়া কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৩ সালে বড়শিলা-নলভাঙা-খাকছাড়া সড়কের কাজ শেষ হয়। বেড়া পৌরসভার বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙা হয়ে খাকছাড়া পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সড়কটির বেশির ভাগ অংশ চলে গেছে বিল এলাকার মধ্য দিয়ে। বছর খানেক আগে এখান দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ঝুঁকি নিয়ে অল্প কয়েকটি রিকশা ও ভ্যান চলাচল করলেও এক পর্যায়ে তা-ও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে লোকজন পায়ে হেঁটে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছিলেন। কিন্তু মাস দেড়েক হলো বৃষ্টির পানিতে সড়কটির বেশ কিছু অংশ ডুবে যাওয়ায় এখন পায়ে হেঁটে চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি যেমন সরু তেমনি নিচু। আগের বছরগুলোতে সড়ক দিয়ে হেঁটে চলাচল করা গেলেও এবার তা-ও করা যাচ্ছে না।
বড়শিলা গ্রামের বাসিন্দা রজব আলী বলেন, ‘সড়ক হওয়ার পর ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি কমেছিল। এখন এই সড়কে হাঁটব্যারও পারি না।’ খাকছাড়া গ্রামে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন বলেন, ‘সড়ক নির্মাণের পর আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হয়েছিল। তাই শিক্ষার্থীও বেড়েছিল। কিন্তু এখন ঐ সড়কটি একেবারে পরিত্যক্ত হয়ে আছে। করোনা পরিস্থিতির পর স্কুল খুললে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতের উপায় থাকবে না।’
এলজিইডির বেড়া কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কদ্দুস বলেন, ‘সড়কটি উঁচু করার পাশাপাশি এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আমরা প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। এবারের বর্ষা মৌসুম শেষে সড়কটি সংস্কারের কাজ শুরু হতে পারে।’
