স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
পুঠিয়ায় শিলনোড়া কারখানায় কাজ করতে গিয়ে অকুপেশনাল হেলথ ডিজিজ রোগে প্রাণ হারাচ্ছেন শ্রমিকরা। গত ১০ বছরেই এসব কারখানায় কর্মরত ২০ জন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন অন্তত ১২ জন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী না থাকায় অনেকে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন। সঠিক সময়ে চিকিত্সা না করায় যা ফুসফুসে আক্রান্ত হয়ে ক্যানসারে রূপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিবপুরহাট এলাকায় বর্তমানে ইসমাইল হোসেন, ইব্রাহিম হোসেন ও ইয়াকুব আলীর কারখানা চালু রয়েছে। সেখানে কাজ করছেন ১৫ জন শ্রমিক। শ্রমিক তালেব আলী বলেন, কারখানার মালিকরা কোনো স্বাস্থ্যসুরক্ষা সরঞ্জাম দেন না। আর মজুরি থেকে অনেকেই স্বাস্থ্যসুরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে চায় না। তবে এ বিষয়ে কারখানার মালিকরা কোনো প্রকার কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
জাগিরপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, কাজের শুরুতে শ্রমিকরা শারীরিক সমস্যার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে তাদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আমরা এসব পরিবারগুলোকে সহযোগিতা করে আসছি। বানেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান গাজি সুলতান বলেন, এই ইউনিয়নে গত ১০ বছরে অন্তত ২০ জন শ্রমিক মারা গেছেন। এর মধ্যে ১২ জন শ্রমিকই জাগিরপাড়া গ্রামের। বর্তমানে ফুসফুস আক্রান্ত রোগী রয়েছেন আরো ১০/১২ জন। পুঠিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমা আক্তার বলেন, শ্রমিকরা স্বাস্থ্যসুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার না করে পাথর কাটার কাজ করছে। এতে করে তারা অল্প দিনের মধ্যে অকুপেশনাল হেলথ ডিজিজ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যা থেকে ফুসফুসে আক্রান্ত হয়ে ক্যানসারের মতো কঠিন রোগও হতে পারে।
