ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে উন্নয়নকাজ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৩

নীলফামারী-সৈয়দপুর সড়ক

মো. আমিরুজ্জামান, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্ত ও মজবুত করার কাজ ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ক জটিলতার কারণে থমকে আছে। সৈয়দপুর উপজেলার ওয়াপদা মোড় থেকে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় পর্যন্ত সাড়ে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের উন্নয়ন কাজের প্রথম দফার সময়ের মেয়াদ শেষে আবার সময় বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় মেয়াদের সময় বাকি আছে আর ৯ মাস। এখন পর্যন্ত অনেক অংশে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় চলাচলে ভোগান্তি পোহাচ্ছে স্থানীয়রা।

জেলা শহরের পরিবহনচালক আব্দুল আউয়াল (৩৫) বলেন, ‘জেলা শহর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ চলছে। শেষ না হওয়ায় ভাঙা সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে।’ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের প্রতিনিধি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা জমি মালিকদের বুঝিয়ে তাদের জায়গায় কাজ শুরু করেছিলাম। এখন দীর্ঘ সময়েও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় কাজে বাধা দিচ্ছেন জমি মালিকরা।’

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, নীলফামারী-সৈয়দপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটির সাড়ে ১৫ কিলোমিটার ১৮ ফুট থেকে বৃদ্ধি করে ৪২ ফুট প্রশস্ত করার প্রকল্পের জন্য ২২৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় একনেক। দরপত্র গ্রহণ শেষে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সড়ক সম্প্রসারণে ৫৪ দশমিক ৬১৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনকে প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এরপর ঐ বছরের ২ আগস্ট এক বছরের সময় নির্ধারণ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন এবং ইসলাম ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এদিকে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হলেও ভূমি অধিগ্রহণ আর স্থাপনার ক্ষতিপূরণের টাকা দুই বছরেও বুঝে পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী পিলার বাজারের ব্যবসায়ী মো. সামাদুল হক (৫৭) বলেন, আজও আমার জমির মূল্যসহ স্থাপনার ক্ষতিপূরণ পাইনি। একই এলাকার ভূমির মালিক কতুব উদ্দীন (৪০) বলেন, ‘এ অংশের রাস্তার কাজ প্রায় শেষ, কিন্তু আজও আমি ক্ষতিপূরণের টাকার জন্য ঘুরছি। নগর দারোয়ানী মোল্লাপাড়ার গ্রামের ওসমান গণি (৫৫) বলেন, ‘যখনই সড়ক অবরোধ করি তখনই সরকারি লোকজন এসে আশ্বাস দেয় টাকা পাবেন। এরপর আর তাদের খোঁজ থাকে না।’

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মঞ্জরুল করিম বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণের জন্য সড়কটিকে চারটি অংশে বিভক্ত করা হয়। এরই মধ্যে তিনটি অংশের বিপরীতে জেলা প্রশাসনকে ২৫৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। একটি অংশের প্রাক্কলন এখনো পাইনি। সেটি পেলে তাদের চাহিদামতো টাকা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন একটি অংশের অধিগ্রহণ নিষ্পত্তি করে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছে, যার দৈর্ঘ্য চার কিলোমিটার ৩০০ মিটার। ঐ অংশের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি তিনটি অংশ নিষ্পত্তি না হওয়ায় ঠিকাদার কাজ করতে পারছেন না। এরই মধ্যে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নাভানা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চিঠি দেয়। ‘আমরা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের (নাভানা কনস্ট্রাকশন) চুক্তিপত্র বাতিল করে ঐ অংশে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করেছি।

 জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অধিগ্রহণের কাজটি শুরু হয়েছিল ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে নতুন গেজেট হলে নতুন আইন ধরে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রাক্কলন করা হয়। এ নিয়ে প্রকল্পের শুরু থেকে একটি জটিলতা শুরু হয়েছিল। এই জটিলতায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চলে গেছে। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ‘রিভাইজড পিপি’ হয়ে টাকাটা আমাদের কাছে এসেছে। এরপর যখন আমরা জনগণকে এ ক্ষতিপূরণ দেব তখন দেখা গেল এটি প্রস্তুতের সময় (প্রস্তাবনা) কিছু ভুলত্রুটি রয়ে গেছে। আইনে বলা আছে, ভুল যখনই জেলা প্রশাসকের গোচরীভূত হবে, তখনই সংশোধন করে চেক প্রদান করতে হবে। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসন, প্রত্যাশী সংস্থা, গণপূর্ত বিভাগ ও বনবিভাগকে যুক্ত করে কাজ করছি আমরা। একটা সিস্টেমে কাজ সম্পন্ন করতে হবে; সে অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। ইতিমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি পত্র প্রেরণ করেছি। সব পেলে এ বছরেই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ঐ সড়কের জমি ও স্থাপনা অধিগ্রহণে চারটি ভাগ করা হয়েছে; যার মধ্যে একটি অংশের ক্ষতিপূরণ প্রদান করে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে একটি অংশের মাঠ বই তৈরি করা যাচ্ছে না।