বহির্নোঙরে অলস বসে আছে অর্ধশত জাহাজ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৩

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে গতকাল বুধবারও দ্বিতীয় দিনের মতো কোনো ধরনের খোলা পণ্য খালাস হয়নি। সদরঘাট-বাংলাবাজারের জেটিগুলোতে লাইটারেজ জাহাজগুলোতে হয়নি কোনো কাজ। বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কর্মবিরতির কারণে এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী মহল থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার জন্য আমদানি করা বিপুল পরিমাণ খোলা পণ্য এই পরিস্থিতিতে আটকে পড়ায় সরবরাহব্যবস্থায় ধস নামার উপক্রম হয়েছে। বহির্নোঙরে অলস আটকে থাকা প্রায় অর্ধশত বড় জাহাজের প্রতিটিকে দৈনিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার। এই ক্ষতির দায় আমদানিকারকদের ওপর বর্তালে তা পণ্যমূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

আমদানিকারক সূত্রগুলো জানায়, বিদেশ থেকে গম, ভুট্টা, ছোলা, সয়াবিন ও সূর্যমুখী বীজ, সার, তেল, পাথর, ক্লিংকার, শিল্পের খোলা কাঁচামাল নিয়ে আসা বড় বড় জাহাজগুলো অলস বসে আছে সাগরে। শুধু খালাস নয়, সারা দেশে নদীপথে পণ্য পরিবহন, লোড-আনলোডও বন্ধ রয়েছে। আড়াই হাজারের বেশি লাইটারেজ জাহাজ, অয়েল ট্যাংকার, বাল্কহেড দেশের সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরগুলোতে অলস দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) চট্টগ্রাম বন্দরবিষয়ক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন ইত্তেফাককে বলেন,    সৃষ্ট অচলাবস্থায় গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে ৪০টির মতো খোলা পণ্যবাহী মাদার ভেসেল অলস দাঁড়িয়ে ছিল। আরো প্রায় এক-দেড় লাখ টন খোলা পণ্য নিয়ে অনেকগুলো মাদার ভেসেল বহির্নোঙরে পৌঁছাতে যাচ্ছে। শুধু চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরেই প্রায় ৮৭৪টি লাইটারেজ জাহাজ সদরঘাট ও বাংলাবাজারের ৩৭টি জেটিঘাটে পণ্য ডেলিভারি এবং বহির্নোঙরে পণ্য লাইটারিংয়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। কাজেই এই অচলাবস্থার একটা স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। এই অচলাবস্থায় মাদার ভেসেলগুলো যে ডেমারেজ গুনছে, তা বৈদেশিক মুদ্রায় জাহাজ মালিকদের পরিশোধ করবে দেশের আমদানিকারকেরা। এতে এই বাড়তি খরচ পণ্যের ওপর যুক্ত হলে দেশের সাধারণ মানুষকে উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে হবে।

বাংলাদেশ লাইটারেজ জাহাজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর, বন্দর চ্যানেল ও কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত ১ হাজারেরও বেশি লাইটারেজ জাহাজ, কার্গো ভেসেল ও অন্যান্য জাহাজ দেশব্যাপী অবিরাম কর্মবিরতির কারণে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো অলস বসে ছিল। শ্রমিকেরা একটি স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় আছেন। ঢাকায় শুনেছি, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান সমস্যা সমাধানে একট বহুপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক ইত্তেফাককে বলেন, বন্দরের জেটিগুলো এবং সংরক্ষিত এলাকায় কনটেইনারবাহী জাহাজের আসা-যাওয়া, লোডিং-আনলোডিং ও ডেলিভারি স্বাভাবিক রয়েছে।

বরিশাল অফিস জানায়, বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে বরিশালে দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘট পালন করেছেন পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকরা। এর ফলে জেলার ওপর দিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া পণ্যবাহী কার্গোগুলো কীর্তনখোলা নদীতে অবস্থান নেয়।  ধর্মঘট সফল করতে গতকাল সকালে নগরীর কেডিসি এলাকায় নদী পাড়ে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা দাবি জানান, নৌযান শ্রমিকদের খোরাকি দিতে হবে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। যতদিন তাদের দাবি আদায় না হবে ততদিন তারা এই ধর্মঘট অব্যাহত রাখবেন বলে ঘোষণা দেন।