অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের স্বীকৃতি দিন

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৭

বিশ্ব ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বন্ধের কারণে গৃহবন্দি অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না। গত ১ এপ্রিল থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৬৯৮ জন প্রবাসী        শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন এবং এপ্রিল থেকে জুন সময়কালে কোনো নতুন শ্রমিক বিদেশে যেতে পারেননি। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কর্মীদের স্বল্পতম সময়ের মধ্যে চাকরি নিয়ে বিদেশে ফেরত পাঠাতে সহায়তা করে আসছে। আমরা নিশ্চিত বলতে পারি যে ইতিমধ্যে আমাদের প্রবাসী কর্মীরা বিদেশে ফিরে কাজ শুরু করেছেন। দেশে ও বিদেশে আমাদের এসব কর্মীই অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এসব কর্মীর কষ্টের স্বীকৃতি দিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্ট উইক শেফার, আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী আবদুল হাদি আখন্দিওয়াল, ভুটানের অর্থমন্ত্রী লায়নপো নামগা শেরিং, ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়নমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি, মালদ্বীপের অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আমির, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. যুবরাজ খাতিওয়াদা, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহাকারী এবং দারিদ্র্য দমন ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. সানিয়া নিশতার এবং শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক জি এল পিরিসের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বিশ্বব্যাংক ও অন্যরা অনুমান করেছিল যে করোনার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী রেমিট্যান্সের পরিমাণ হ্রাস পাবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতেও রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ৫৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুন-আগস্ট) ৬ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার (৫৭ হাজার কোটি টাকা)  রেমিট্যান্স এসেছে, যা পূর্বের বছরের একই প্রান্তিকের চেয়ে ৪৯ শতাংশ বেশি। অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ সরাসরি নগদ প্রণোদনা নীতি এক্ষেত্রে প্রশাংসার দাবিদার।

দেশের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান হয়েছে মোট ২ লাখ ৮৪ হাজার; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি। তিনি আরো উল্লেখ করেন, করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকেই সরকার বিশেষ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ব্যবস্থা করেছিল। এপ্রিল ও মে মাসে ছুটির সময়ে প্রত্যাবাসনের জন্য বিদেশে গমনকারীদের জন্য ১৩ লাখ ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। চলতি অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয় ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রবাস শ্রমিকদের লক্ষ্য করে একটি নির্দিষ্ট সামাজিক সুরক্ষার জন্য প্রায় ২৪ কোটি ডলারের ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান ।