এসআই হাসান সাসপেন্ড, পরিবারের নতুন কর্মসূচি

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৮

গত ১১ অক্টোবর শহরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় ফাঁড়ির টু-আইসি উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান উদ্দিনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এ তথ্য জানায়। ঘটনার মূল অভিযুক্ত বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি থেকে পালাতে সহায়তা করা এবং তথ্য গোপনের অপরাধে হাসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিন জনকে প্রত্যাহার করা হয়। এদের মধ্যে কেবল কনস্টেবল টুটু চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বরখাস্ত হওয়ার পর থেকে আকবর পলাতক। অন্যরা এসএমপি পুলিশ লাইনের নজরদারিতে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।

পুলিশ ফাঁড়িতে ‘নির্যাতনে’ যুবক রায়হান হত্যা মামালার মূল অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ১০ দিন পরও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির মাসে বিরাট অঙ্কের আয়রোজগারের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে, যা আকবরই নিয়ন্ত্রণ করতেন। আকবরের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে মহানগর পুলিশসহ অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর একটি তদন্তদল পাঠিয়েছে সিলেটে।

সিলেট পিবিআই পুলিশ সুপার খালেকুজ্জামান বলেছেন, আকবরকে ধরতে পিবিআইয়ের একাধিক টিম কাজ করেছে। কয়েকটি স্থানে অভিযানও চালানো হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সিলেটে সাংবাদিদের বলেছেন, অভিযুক্ত এসআই আকবর দেশেই রয়েছে। পালিয়ে বিদেশে গেলেও তাকে ধরে আনা হবে।

এসআই আকবরকে যখন ধরতে পারছে না পুলিশ, ঠিক এই সময়ে আকবরকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের সিলেটি ব্যবসায়ী সামাদ খান। তিনি বলেন, আকবরকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যে ধরিয়ে দিতে পারবে, তাকে ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তার এই ঘোষণারও সময়সীমা প্রায় শেষ। তবু আকবরের টিকিটি কেউ পাচ্ছে না।

৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ, পরবর্তী কর্মসূচি

নির্যাতনে রায়হান আহমদকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল তার পরিবার গত রবিবার। নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে আলটিমেটাম দেন রায়হানের মা সালমা বেগম। বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অতিক্রম হয়েছে গতকাল বুধবার দুপুরে। কিন্তু এখনো প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ফলে লাগাতার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে রায়হানের পরিবার। বৃহস্পতিবার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত্, শুক্রবার বাদ জুমা মসজিদে মসজিদে রায়হানের জন্য দোয়া মাহফিল ও শনিবার বিকাল ৪টায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মদিনা মার্কেট পয়েন্টে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। রায়হানের স্বজন মো. শওকত হোসেন কর্মসূচি সফল করতে সিলেটের সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা গেপ্তার না হলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা আপাতত কঠোর কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে এরপর যদি প্রশাসন জড়িতদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।  দুপুরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে ও বিচারের দাবিতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সামনের রাস্তা অবরোধ করেন বিক্ষোভ করেছে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সিলেটের কর্মীরা।

গত ১১ অক্টোবর ভোরে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিত্সাধীন অবস্থায় রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী। মামলাটি পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। পিবিআই লাশ দ্বিতীয়বারের মতো কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করায়। রায়হানের মরদেহে ১১৩টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ফরেনসিক রিপোর্টে।