বিমান থেকে নামামাত্রই পি কে হালদারকে গ্রেফতার করতে হবে

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৯

দেশে ফিরলে আগে জেলে যেতে হবে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারকে। যিনি পি কে হালদার নামে পরিচিত। এ সংক্রান্ত মামলার আদেশে হাইকোর্ট বলেছে, দুবাই থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিমান থেকে বের হওয়ামাত্রই পিকে হালদারকে গ্রেফতার করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর পর কারাগারে পাঠানোর উদ্যোগ নেবে। দেশে এসে সে যেন কোনোভাবেই বিদেশে ফেরত যেতে না পারে। এ সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এই আদেশ দেন। পুলিশের আইজি, ইমিগ্রেশন পুলিশ ও দুদককে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ নিয়ে কানাডায় অবস্থান করা পিকে হালদার আগামী ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এ সংক্রান্ত টিকিটের একটি অনুলিপিও হাইকোর্টে দাখিল করেছে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেড (আইএলএফএসএল)। এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন তিনি। বিদেশ থেকে দেশে ফিরে তিনি থাকতে চান আদালতের কাস্টডিতে। সে জন্য নিরাপদে দেশে ফেরার জন্য আদালতের নির্দেশনা চেয়ে তারপক্ষে হাইকোর্টে একটি আবেদন করে ঐ আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি।

আবেদনে বলা হয়, পিকে হালদার ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে দেশে ফিরতে চান এবং তার সব প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আইএলএফএসএলসহ অন্য সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দায়দেনা মিটিয়ে ফেলতে চান। এজন্য দুদক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে থাকতে চান আদালতের কাস্টডিতে।

এই আবেদনের ওপর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান ও আইএলএফএসএলের পক্ষে মাহফুজুর রহমান মিলন শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, পি কে হালদার যদি দেশে আসেন, তাহলে বিশাল অঙ্কের এই কোম্পানি ম্যাটারটি কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি করা যাবে। সে জন্য দেশে ফেরামাত্রই তাকে গ্রেফতার করে যেন জেলে নেওয়া হয়। তাহলে তার আবেদন অনুযায়ী তার আশঙ্কা (কিডন্যাপ করা) আর সত্য হবে না। এ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পি কে হালদারের এই অভিযোগ (কিডন্যাপ) মারাত্মক। যদি এই ধরনের আবেদন করা হয়ে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করব